প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আইএমএফ আর্টিকেল ফোর মিশন ঢাকায় এসেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের আগে পঞ্চম পর্যালোচনা করতে সংস্থাটির আরেকটি দলও এখন ঢাকায় অবস্থান করছে।
দুই দলই দুই সপ্তাহের সফরে এসেছে এবং তারা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবে।
বুধবার আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়—বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নর নেতৃত্ব দেন।
আইএমএফের গবেষণা বিভাগের ডেভেলপমেন্ট ম্যাক্রো ইকোনমিকসের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও এবারও মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। উদ্বোধনী বৈঠকে তিনি এবারের মিশনের লক্ষ্য ও আলোচ্য বিষয় তুলে ধরেন।
সূত্র জানায়, এবার আইএমএফের মূল ফোকাস থাকবে পরিমাণগত কর্মক্ষমতা মানদণ্ড’ পূরণ হয়েছে কি না, তা মূল্যায়নে। এটি আইএমএফের বাধ্যতামূলক শর্তগুলোর একটি।
ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে—তা জানতে চায় আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশন। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা,বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া পরিশোধের অগ্রগতি,প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) বিপরীতে প্রণোদনা হ্রাস।
অর্থ বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, আইএমএফ বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া ২৮ হাজার কোটি টাকার নিচে নামাতে বলেছিল। সরকার সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে আগেই, তবে নতুন বকেয়া জমার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
চলমান ঋণ কর্মসূচি থেকে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ বাংলাদেশের পাওয়ার কথা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের দিকে। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকায় অনেকেই মনে করছেন, আইএমএফ হয়তো নির্বাচিত সরকারের সময়ই কিস্তি ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেবে।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন,শোনা যাচ্ছে পরবর্তী কিস্তি নির্বাচিত সরকারের সময় ছাড় হতে পারে। কিন্তু গত জুনে কর্মসূচির আকার বাড়ানোর সময়ও তো সবাই জানত যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। তাহলে এখন সেই বিষয়টি কিস্তি ছাড়ে প্রভাব ফেলবে কেন, তা বোধগম্য নয়।