প্রতিবেদক: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য যৌথভাবে এসএমই ডেবিট কার্ড সেবা চালু করেছে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ও মাস্টারকার্ড। নতুন এই কার্ডের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সাধারণ ডেবিট কার্ডের তুলনায় অনেক বেশি লেনদেন সুবিধা পাবেন।
কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এ সেবা চালু করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা এবং পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের পরিচালক মো. শরাফত উল্লাহ খান।
এসএমই ডেবিট কার্ডে এটিএম থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে (সাধারণ কার্ডে সীমা ১.৫ লাখ টাকা)।
শাখা ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৮ লাখ টাকা তোলা সম্ভব।
ইসলামী ব্যাংকের ৩ হাজারের বেশি এটিএম/সিআরএম বুথ এবং অন্যান্য ব্যাংকের ১৫ হাজার এটিএম থেকে লেনদেন করা যাবে।
৯ হাজারের বেশি মাস্টারকার্ড পার্টনার মার্চেন্টে সারা বছর বিশেষ ছাড় ও অফার পাওয়া যাবে।
ট্যাপ অ্যান্ড গো, ই-কমার্স পেমেন্ট ও সেলফিন অ্যাপের মাধ্যমে সহজ এনরোলমেন্ট সুবিধা থাকবে।
কার্ড ইস্যু ফি নেই, তবে বছরে দুবার ৪০০ টাকা করে মোট ৮০০ টাকা নবায়ন ফি দিতে হবে।
ইসলামী ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোশাররফ হোসেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, বর্তমানে ব্যাংকের ১ লাখ ৪১ হাজার বিনিয়োগ গ্রহীতার মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার এসএমই উদ্যোক্তা রয়েছেন। ব্যাংকটি ইতিমধ্যে এসএমই খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে ৭৩০ কোটি টাকা।
প্রধান অতিথি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “শিক্ষাকে যেমন জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়, তেমনি এসএমই হলো অর্থনীতির মেরুদণ্ড। শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের সেবার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।”
ইসলামী ব্যাংকের এমডি মো. ওমর ফারুক খান বলেন, এসএমই খাতে বিনিয়োগ বড় বিনিয়োগের তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ ও টেকসই। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং জিডিপিতে বড় অবদান রাখা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা জানান, এই ডেবিট কার্ড উদ্যোক্তাদের অনলাইনে বিজ্ঞাপন ও আন্তর্জাতিক পেমেন্টের সুযোগ দেবে। তিনি ইসলামী ব্যাংককে স্টার্টআপ ও বিশেষ রিফাইন্যান্স তহবিলে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, কার্ডটিতে ডুয়েল কারেন্সি সুবিধা থাকায় উদ্যোক্তারা দেশে-বিদেশে সমানভাবে লেনদেন করতে পারবেন। এতে অনলাইন ব্যবসা, ই-কমার্স ও আমদানির সুযোগ আরও প্রসারিত হবে।
অনুষ্ঠানে মাস্টারকার্ড ও ইসলামী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।