প্রতিবেদক: আর্থিক পরিকল্পনা যতই সুচারুভাবে করা হোক না কেন, জীবনের নানা সময়ে টাকার প্রয়োজন হতেই পারে। পারিবারিক চিকিৎসা, জরুরি গৃহ মেরামত কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অনেকে একাধিক পারসোনাল লোন বা ব্যক্তিগত ঋণ নেন। কিন্তু একসঙ্গে একাধিক ঋণের কিস্তি বা ইএমআই পরিশোধ করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে দরকার স্মার্ট ঋণ ব্যবস্থাপনা ও সময়মতো পরিশোধের কৌশল। নিচে এমন কয়েকটি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো—
একাধিক ঋণের কিস্তি আলাদা তারিখে পরিশোধ করা ঝামেলাপূর্ণ হতে পারে। তাই অটো পেমেন্ট সুবিধা চালু করুন। বেতন পাওয়ার দুই–তিন দিনের মধ্যে ব্যাংক যেন কিস্তির টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেয়, সেই ব্যবস্থা করুন। এতে ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং খরচ শুরু হওয়ার আগেই ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে।
নিজের সব ঋণের একটি পরিষ্কার চিত্র রাখুন। এক্সেল শিট বা নোটবুকে লিখে রাখুন—ব্যাংকের নাম, ঋণের পরিমাণ, সুদের হার, মেয়াদ, বাকি কিস্তির সংখ্যা ও মোট বকেয়া।
এই তালিকা আপনার মোট দায় ও প্রতিটি ঋণের অবস্থান বুঝতে সাহায্য করবে, যা পরবর্তী পরিশোধ পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়ক হবে।
আপনার মাসিক খরচের তালিকায় ঋণের কিস্তিকে একটি অবশ্যক ব্যয় হিসেবে যুক্ত করুন। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সময়মতো কিস্তি পরিশোধে দায়বদ্ধতা তৈরি হবে।
ঋণ পরিশোধে দুটি জনপ্রিয় কৌশল আছে।স্নোবল মেথড আগে ছোট ঋণগুলো শোধ করুন। এতে দ্রুত অগ্রগতি দেখা যায়, মানসিক চাপও কমে।
অ্যাভালাঞ্চ মেথড আগে সেই ঋণ শোধ করুন যার সুদের হার সবচেয়ে বেশি। এতে সুদের খরচ বাঁচে।
আপনার আর্থিক অবস্থার সঙ্গে যেটি মানানসই, সেটিই বেছে নিন।
প্রয়োজনে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ জানতে পারেন। এতে ঋণের মেয়াদ বাড়ানো, সুদের হার কিছুটা কমানো বা একাধিক ঋণ একত্রে সমন্বয়ের সুযোগ পেতে পারেন। এতে পরিশোধের চাপ কমবে।
বোনাস, প্রণোদনা, উৎসবভাতা বা যেকোনো অতিরিক্ত আয় হলে প্রথমেই ঋণ পরিশোধের কথা ভাবুন। বড় ঋণের চেয়ে আগে ছোট ঋণ বা সর্বোচ্চ সুদের ঋণ শোধ করলে আর্থিক চাপ দ্রুত হ্রাস পায়।
ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পুরোটা একসঙ্গে পরিশোধ করা না গেলে ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে তা ইএমআই বা কিস্তিতে পরিশোধের ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে উচ্চ সুদের চাপ কমবে এবং ক্রেডিট স্কোরও ভালো থাকবে।
যদি একাধিক ঋণ সামলাতে সমস্যায় পড়েন, তাহলে পেশাদার ঋণ পরামর্শক বা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজরের সহায়তা নিতে পারেন। তারা আপনার জন্য বাস্তবসম্মত পরিশোধ পরিকল্পনা তৈরি করতে সহায়তা করবেন।
অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে একাধিক ঋণ নেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা ও আর্থিক সচেতনতা বজায় রাখলে এই ঋণও ধীরে ধীরে পরিশোধ করা সম্ভব।
নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ ও অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আপনি ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারেন ঋণমুক্ত জীবনের পথে।