ওয়েজ আর্নার বন্ডে ১২% মুনাফা, সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বিমার সুবিধা

প্রতিবেদক: বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য দেশে বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত। এ কারণে প্রবাসীদের জন্য বিশেষায়িত বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে চালু আছে প্রবাসী কল্যাণ বন্ড। বর্তমানে মোট তিন ধরনের বন্ড রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যায় ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডে।

এই বন্ড অনেকটা ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিটের মতো। প্রবাসীরা সরকারের কাছে এককালীন অর্থ বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মূলধনসহ মুনাফা ফেরত পান। তবে ব্যাংকের তুলনায় এখানে মুনাফার হার বেশি, অর্জিত আয় পুরোপুরি করমুক্ত এবং অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে রয়েছে মৃত্যুঝুঁকির বিমা। পাঁচ বছর মেয়াদি ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডে মেয়াদান্তে ১২ শতাংশ মুনাফা মেলে। চাইলে ছয় মাস অন্তর মুনাফা তোলার সুযোগও আছে।

এ ছাড়া রয়েছে ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড। দুটিই তিন বছর মেয়াদি। প্রিমিয়াম বন্ডে মেয়াদান্তে মুনাফার হার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে ভাঙালে মুনাফার হার কমে যায়। তিন বন্ডের মুনাফাই আয়করমুক্ত। ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড পাওয়া যায় ২৫ হাজার থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মূল্যে।

কে কে এই বন্ড কিনতে পারবেন তার জন্য নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। বৈধ ওয়েজ আর্নার নিজে, তাঁর নির্ধারিত সুবিধাভোগী বা আবেদনপত্রে উল্লিখিত ব্যক্তি এই বন্ড কিনতে পারেন। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে কর্মরত কর্মকর্তা–কর্মচারী এবং লিয়েনে বিদেশে কর্মরত সরকারি, সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও নির্দিষ্ট শর্তে এ বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডে আরও কিছু বাড়তি সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মৃত্যুঝুঁকির বিমা, ছয় মাস অন্তর মুনাফা প্রদান, বন্ডের বিপরীতে ঋণ নেওয়ার সুযোগ, নমিনি পরিবর্তন বা বাতিলের সুবিধা, হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে ডুপ্লিকেট বন্ড পাওয়া এবং মার্কিন ডলারে মূল অর্থ উত্তোলনের সুযোগ। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব থাকার বাধ্যবাধকতা নেই।

বন্ড কিনতে হলে প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, বৈধ ভিসার কপি, চাকরির প্রমাণপত্র এবং দেশে একটি সঞ্চয়ী হিসাব থাকতে হবে। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স এবং পেশাজীবীদের জন্য পেশার সনদপত্র প্রয়োজন। এসব বন্ড পাওয়া যায় বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার শাখা, এক্সচেঞ্জ হাউস ও এক্সচেঞ্জ কোম্পানিতে।