ক্যাশলেস ইকোনমি যেন আয়বিহীন অর্থনীতিতে পরিণত না হয়: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

প্রতিবেদক: বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, নগদবিহীন অর্থনীতিকে (ক্যাশলেস ইকোনমি) প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা মানুষের জন্য আয় সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, এটি যেন আয়বিহীন অর্থনীতিতে (ইনকামলেস ইকোনমি) পরিণত না হয়।

আজ বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিট ২০২৫-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনট্যান্টস (আইসিএমএবি) ও মাস্টারকার্ড।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর কেবল প্রযুক্তিগত নয়, একই সঙ্গে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলার বিষয়ও। এ জন্য একটি সমন্বিত কৌশল জরুরি। বর্তমানে দেশে প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ নগদ অর্থ লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ডিজিটাল লেনদেন থেকে বঞ্চিত। এছাড়া দেশের ৬০-৭০ শতাংশ মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত না করলে ক্যাশলেস ইকোনমির সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।

তিনি আরও জানান, নগদবিহীন অর্থনীতি এগিয়ে নিতে সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি কেনাকাটা আইন সংশোধন, রাজস্বনীতিতে পরিবর্তন, সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন এবং ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ। বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৭৫ শতাংশ লেনদেন ডিজিটাল করার লক্ষ্য নিয়েছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারের নীতি সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজন রয়েছে।

তার মতে, সার্বিক লেনদেন ব্যবস্থা (পেমেন্ট ইকোসিস্টেম) বহুমুখী করতে হবে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে (এমএফএস) কেবল নগদ জমা ও উত্তোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাস্তাঘাটের দোকানসহ অনানুষ্ঠানিক খাতেও ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ফিনটেক, টেলিকম ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই অন্তর্ভুক্তিমূলক নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে তিনি তিনটি সুপারিশ তুলে ধরেন। প্রথমত, নগদবিহীন অর্থনীতি নিয়ে দেওয়া পরামর্শগুলো সমন্বিত করে একটি কাঠামোবদ্ধ প্রস্তাবনা তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, পরিকল্পনা কমিশনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া। তৃতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে অগ্রগতি তদারক ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা।