ডিজিটাল লেনদেন বেড়েছে, নগদের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি

প্রতিবেদক: বাংলাদেশে ডিজিটাল মাধ্যমে যে পরিমাণ লেনদেন হচ্ছে, তা নগদ টাকার চেয়ে আড়াই গুণ বেশি। তবে উৎসব ও পার্বণে ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি পায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ পেমেন্ট সিস্টেমস রিপোর্ট ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশের সব মিলিয়ে নগদ ও ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৬ লাখ ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকায়।

২০২৩ সালে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৬৭ লাখ বার, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ৪০ কোটি ৩১ লাখ বার হয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনের মোট মূল্য ২০২৩ সালে ৭ লাখ ৫১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ছিল, ২০২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

নগদ লেনদেনও বেড়েছে। ২০২৩ সালে নগদ লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৬২ লাখ বার, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ৪৫ কোটি ৪৯ লাখ বার হয়েছে। নগদ লেনদেনের মূল্য ২০২৩ সালে ১৮ লাখ ৫৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। নগদ লেনদেন হলো চেক ও ভাউচারের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন।

ডিজিটাল লেনদেনের মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় চেক নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ, আন্তব্যাংক অর্থ স্থানান্তর, বিনিময় প্ল্যাটফর্ম, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষ ছোট ও মাঝারি মূল্যের লেনদেনে ডিজিটাল চ্যানেল ব্যবহার করে, কিন্তু বড় অঙ্কের লেনদেনে এখনো নগদ ও চেকের ওপর নির্ভরশীল।

২০২৪ সালের এপ্রিল ও জুন মাসে ডিজিটাল লেনদেন মোট লেনদেনের ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়, বিশেষ করে ঈদ উৎসব, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও বিক্রয় ক্যাম্পেইনের কারণে। বছর শেষে ডিসেম্বর মাসে নগদ উত্তোলন ও হিসাব নিষ্পত্তির কারণে ডিজিটাল লেনদেনের অংশ কমে ৪৭ শতাংশে নেমে আসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অটোমেটেড চেক প্রসেসিং সিস্টেমের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ ৪২ হাজার চেক নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ১১ লাখ ৭৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের মাধ্যমে ১৫ কোটি ৪০ লাখ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যার মোট মূল্য ২৭ লাখ ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এমএফএস খাতে ২০২৪ সালে ৭৩০ কোটি লেনদেন হয়েছে, যার মূল্য ১৭ লাখ ৩৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাশলেস বা নগদবিহীন বাংলাদেশ উদ্যোগের আওতায় বাংলা কিউআর লেনদেনে ১০৪ শতাংশ বার হিসাবের এবং ৬৯ শতাংশ টাকার হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও ডিজিটাল হাটে এই লেনদেন ব্যবহার শুরু হয়েছে। পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম অ্যাক্ট, ২০২৪ প্রবর্তনের মাধ্যমে পেমেন্ট রেগুলেশনের আইনি ভিত্তি আরও দৃঢ় হয়েছে।