ডিমের চাহিদা ও দামের উল্লম্ফন

প্রতিবেদক: বাজারে ডিমের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গত ১০ দিনে প্রতি ডজন ডিমের দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে সাদা ডিম ডজনে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায় এবং বাদামি ডিম ১৫০ টাকায়। ১০ দিন আগেও দাম ছিল ১২০–১৩০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, মাছ ও সবজির চড়া দামের কারণে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ ডিমের দিকে বেশি ঝুঁকেছেন, ফলে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেড়ে গিয়ে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৫ কোটি পিস ডিম উৎপাদিত হয়, যা চাহিদার প্রায় সমান। তাই চাহিদা বেড়ে গেলে বা সরবরাহ কমে গেলে দাম দ্রুত বেড়ে যায়। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, তালতলা, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রেতা ও ক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে ৮০–১০০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া যাচ্ছে না, মাছ–মুরগির দামও বেশি, তাই মানুষ ডিমের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়েছেন।

কৃষি মার্কেটের বিক্রেতা মো. মুরাদ হোসেন জানান, এক সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে ২০–২৫ টাকা বেড়েছে, ফলে কিছুদিন বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন। গত বছরও সেপ্টেম্বরে–অক্টোবরে ডিমের দাম ১৬০–১৮০ টাকায় উঠেছিল, তখন সরকার যৌক্তিক দাম নির্ধারণ, বাজার তদারকি এবং আমদানি অনুমোদনের মাধ্যমে দাম কমায়। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর তখন উৎপাদন পর্যায়ে প্রতি ডিমের দাম ১০.৫৮ টাকা, পাইকারিতে ১১.০১ টাকা এবং খুচরায় ১১.৮৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল, যা ডজনে ১৪২.৪৪ টাকা হয়। বর্তমানে বাজারদর এর চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও গত কয়েক মাসের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।

পাইকারি ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান জানান, রংপুর থেকে তিনি প্রতি ডিম কিনেছেন ১০.৭০ টাকায়, পরিবহন খরচসহ তা দাঁড়ায় ১১.১০ টাকা, এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেছেন ১১.৩০ টাকায়। খুচরায় এই ডিম বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১২ টাকায়।

বাংলাদেশ এগ প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহের আহমেদ সিদ্দিকী জানান, উৎপাদন প্রায় ২০% কমে গেছে কারণ অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, গত সাত মাস খামারিরা লোকসানে ডিম বিক্রি করেছেন—৭–৮ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন খরচ ন্যূনতম ১০ টাকা। এতে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে, আর এখন চাহিদা বাড়ায় খামারিরাও দাম বাড়িয়েছেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বর্ষা মৌসুমে মাছ ও সবজির দাম বাড়ায় ডিমের চাহিদা বেশি থাকে, যা দামের ওপর প্রভাব ফেলে। তাঁর মতে, বর্তমান দাম যৌক্তিক মূল্যের কাছাকাছি।

এদিকে, দামের এই বৃদ্ধি ভোক্তাদের, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। মোহাম্মদপুরের রিকশাচালক ময়েজউদ্দীন বলেন, “আমার আয় দিয়ে মাছ–মুরগি কেনা কষ্টকর, তাই ডিমই কিনতাম। এখন ডিমের দামও বেড়ে গেল।