প্রতিবেদক: দুই মাস আগে চট্টগ্রাম বন্দরে ভুটানের ট্রানজিট পণ্যের প্রথম পরীক্ষামূলক চালান জাহাজ থেকে নামানো হলেও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন না থাকায় এত দিন তা খালাস করা যায়নি। গত সপ্তাহে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর রোববার ভুটানের পণ্য খালাসের জন্য নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান খালাস প্রক্রিয়া শুরু করে। সোমবার খালাস শেষে কনটেইনারটি ভুটানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা।
বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ২০২৩ সালের ২২ মার্চ সই হওয়া ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য মুভমেন্ট অব ট্রাফিক-ইন-ট্রানজিট’ চুক্তি ও প্রটোকলের আওতায় এই পরীক্ষামূলক চালান পরিবহন করা হচ্ছে। চুক্তির এক বছর পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে ভুটানে অনুষ্ঠিত বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠকে সুবিধাজনক সময়ে দুটি পরীক্ষামূলক চালান পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ অনুযায়ী গত ৮ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের ল্যাম চ্যাবাং বন্দরে চালানটি জাহাজে বোঝাই করা হয় এবং ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশি পতাকাবাহী এমভি এইচআর হিরা জাহাজে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে যায়।
পরীক্ষামূলক এ চালানটিতে রয়েছে ৬ হাজার ৫৩০ কেজি পণ্য—শ্যাম্পু, শুকনো পাম ফল, আইস টি, চকলেট ও জুস। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান থাইল্যান্ডের অ্যাবিট ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এবং আমদানিকারক ভুটানের এবিট ট্রেডিং। ১৭ নভেম্বর এনবিআর চালানটির কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দেশনা দেয় এবং ২০ নভেম্বর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পরীক্ষামূলক ট্রানজিটের টোল ও মাশুল নির্ধারণ করে। এরপর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এন এম ট্রেডিং করপোরেশন খালাস প্রক্রিয়া শুরু করে। চট্টগ্রাম কাস্টমস জানায়, রোববার বিকেলে নথি জমা দেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টায় শুল্কায়ন সম্পন্ন হয়েছে।
চালানটি পরিবহনের জন্য নির্ধারিত ট্রানজিট রুট হলো—থাইল্যান্ডের ল্যাম চাবাং বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে সড়কপথে বুড়িমারী স্থলবন্দর, এরপর ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা ও শিলিগুড়ি হয়ে ভুটানের ফুয়েন্টশোলিং। পরীক্ষামূলক এ চালান থেকে বাংলাদেশ তিন সংস্থার মাধ্যমে মাশুল পাচ্ছে—চট্টগ্রাম কাস্টমস, চট্টগ্রাম বন্দর ও সড়ক পরিবহন বিভাগ। এনবিআর নির্ধারিত ফিগুলোর মধ্যে রয়েছে ডকুমেন্ট প্রসেসিং ফি, ট্রান্সশিপমেন্ট ফি, নিরাপত্তা চার্জ, এসকর্ট ফি, প্রশাসনিক মাশুল ও স্ক্যানিং ফি। এছাড়া সড়ক টোল হিসেবে চট্টগ্রাম পোর্ট অ্যাকসেস রোডে ৪৫ টাকা, বিভিন্ন সেতুর জন্য মোট ৪ হাজার ৮১৫ টাকা এবং টোল–ফ্রি সড়কে প্রতি টনে ১ হাজার ৪৬২ টাকা হারে মোট ১০ হাজার ২৩৪ টাকা মাশুল দিতে হবে।
২০২৪ সালে ভুটানের মোট বৈদেশিক বাণিজ্য ছিল ১৮৯.৫৮ কোটি ডলার, যার ৭৯ শতাংশই ভারতের সঙ্গে। বাংলাদেশ ও ভারতের মাধ্যমে ভুটানের যে পরিমাণ পণ্য পরিবহন হতে পারে, তা চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতার তুলনায় খুব কম বলে মনে করেন চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক পর্ষদ সদস্য মো. জাফর আলম। তাঁর মতে, ভুটান নিয়মিত ট্রানজিট পণ্য পরিবহন শুরু করলেও বন্দরের ওপর কোনো উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হবে না।