প্রতিবেদক: ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ১২ হাজার নারী কর্মক্ষেত্র ছেড়েছেন, একই সময়ে নতুন করে কর্মজগতে প্রবেশ করেছেন মাত্র ৪৪ হাজার পুরুষ। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সর্বশেষ চাকরির পরিসংখ্যানের এই তথ্য বিশেষভাবে দৃষ্টি কাড়ছে। কারণ, কর্মক্ষেত্র ছেড়ে যাওয়া নারীদের বড় অংশই উচ্চপদস্থ ও সফল পেশাজীবী। তাঁরা ক্যারিয়ার নিয়ে নতুনভাবে ভাবছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সচেতন সিদ্ধান্তে চাকরি ছাড়ছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ইসি লাপোভস্কি এই প্রবণতাকে ব্যাখ্যা করেছেন ‘দ্য পাওয়ার পজ’ বা ক্ষমতায়নের পথে বিরতি হিসেবে। তাঁর মতে, বহু বছর নিরন্তর পরিশ্রমের পর কলেজশিক্ষিত নারীদের একাংশ খণ্ডকালীন চাকরিতে যাচ্ছেন বা পুরোপুরি কর্মক্ষেত্র ছাড়ছেন। কেউ সন্তানকে সময় দিতে চাইছেন, কেউ উদ্যোক্তা হচ্ছেন, আবার কেউ ভিন্ন জীবনধারা বেছে নিচ্ছেন। এটি শুধু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নয়, বরং ব্যক্তিগত অগ্রাধিকারের কারণে।
২০০৮ সালেও দেখা গিয়েছিল, নারীরা যতটা হারে চাকরিতে প্রবেশ করছেন, তার চেয়ে বেশি চাকরি ছাড়ছেন। বর্তমান পরিস্থিতি অনেককে সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—এখনো কি সমাজ এমন সমাধান খুঁজে পায়নি, যেখানে নারীরা মাতৃত্ব ও পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য আনতে পারবেন?
লাপোভস্কির মতে, বিষয়টি কেবল ‘না পারা’র মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং অনেক নারী বলছেন, তাঁরা পারতেন সামলাতে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে চাকরি ছাড়ছেন। একজন নারী বলেছেন, ‘আমি সবকিছুই পেতাম, কিন্তু এখন আমি আমার সময় চাই।’ অর্থাৎ সচেতনভাবে তাঁরা ব্যক্তিগত অগ্রাধিকারকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
কোভিড-১৯ মহামারির পর এই প্রবণতা আরও ত্বরান্বিত হয়। গৃহিণী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া নারীর সংখ্যা বেড়েছে। অনেকে জানিয়েছেন, তাঁরা সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। আবার খণ্ডকালীন ও ঘরে বসে কাজ করার প্রবণতাও বেড়েছে। ম্যাককিন্সি ও লিনইনের এক গবেষণা জানাচ্ছে, নেতৃত্বস্থানীয় নারী—মা এবং মা নন উভয়েই রেকর্ড সংখ্যায় চাকরি ছাড়ছেন।
তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। বিশেষ করে অশ্বেতাঙ্গ নারীদের জন্য বিষয়টি জটিল। অনেক নারী দ্বন্দ্বে পড়েছেন—তাঁরা কি সুখ-শান্তির জন্য দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে অর্জিত ক্যারিয়ার বিসর্জন দেবেন, নাকি লড়াই চালিয়ে যাবেন? কেউ কেউ স্বল্পমেয়াদে বিরতি চান, তবে দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ারের প্রভাব নিয়ে শঙ্কিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষত লিংকডইনে, নারীরা প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন, তাঁরা সচেতনভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি চাকরি না করার গল্প নয়, বরং নতুন জীবনযাত্রার প্রকাশ।
লাপোভস্কির মতে, শিক্ষিত ও সচ্ছল নারীদের জন্য চাকরি না করা এক ধরনের ক্ষমতায়ন হলেও অসংখ্য নারী এখনো বিকল্পের অভাবে চাকরিতে থাকতেই বাধ্য। ফলে ভবিষ্যৎ একদিকে আশাব্যঞ্জক হলেও অন্যদিকে বাস্তবতার কারণে মিশ্র।