প্রতিবেদক: স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়টি এখন আর এককভাবে সরকারের হাতে নেই। এটি জাতিসংঘের নির্ধারিত প্রক্রিয়া, যেখানে সব সদস্যরাষ্ট্রের মতামত গুরুত্ব পায়। আগামী দিনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এলডিসি তালিকায় থাকা বাংলাদেশ, নেপাল ও লাওস নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ নেপাল ও লাওসের তুলনায় এগিয়ে থাকায় উত্তরণ পেছানোর যৌক্তিকতা নেই বলে মত দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
শনিবার ঢাকার পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘এলডিসি থেকে উত্তরণ ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ২৬ পৃষ্ঠার প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উত্তরণ ২০২৪ সালে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কোভিডের কারণে সব দেশকেই অতিরিক্ত দুই বছর সময় দিয়ে ২০২৬ সালে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আরও সময় চাওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। নেপাল, লাওস পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না?”
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত আছে। তবে তিনি ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা তৈরির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “ঝুঁকি নিয়েই ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এগিয়ে গেছে। ঝুঁকি না নিলে বাংলাদেশও এগোতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। এছাড়া শ্রমিকদের মজুরি ও শিল্পকারখানা রক্ষার বিষয়েও ভারসাম্য আনার আহ্বান জানান তিনি।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আনিসুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, “আগে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে। অর্থনীতি যে ‘লাইফ সাপোর্টে’ ছিল, তা স্পষ্ট হয়েছে। নতুন সরকার চাইলে বিষয়টি নতুনভাবে সাজাতে পারত।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের কোনো আলোচনা হয়নি। তাঁর মতে, নেপাল ও লাওসের রপ্তানি বাংলাদেশের তুলনায় সীমিত, তাই তাদের হারানোর তেমন কিছু নেই; কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থা ভিন্ন।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সুযোগ নেই। তবে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে হবে।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের পারস্পরিক সমন্বয় ছাড়া বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পথ মসৃণ হবে না।