প্যাসিফিক জিনসের সাত কারখানা বৃহস্পতিবার থেকে খুলছে

প্রতিবেদক: কারখানায় হামলা ও কর্মপরিবেশ অনুপযুক্ত হওয়ায়’ বন্ধ ঘোষণা করা পোশাক রপ্তানি খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিনস গ্রুপের সাতটি কারখানা আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় খুলছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বন্ধ থাকা কারখানাগুলো হলো প্যাসিফিক জিনস, জিনস ২০০০, ইউনিভার্সেল জিনস, এনএইচটি ফ্যাশন, প্যাসিফিক এক্সেসরিজ, প্যাসিফিক ওয়ার্কওয়্যার ও প্যাসিফিক অ্যাটায়ার্স। এর মধ্যে প্যাসিফিক জিনসের দুটি কারখানা ও ইউনিভার্সেল জিনসের চারটি ইউনিট অন্তর্ভুক্ত।

কারখানা খোলার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে কারখানা পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবাইকে নিজ নিজ বিভাগে উপস্থিত থেকে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে উৎপাদন কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনায় সহায়তা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে এনএইচটি ফ্যাশন লিমিটেডের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে ‘সংঘর্ষে দুই শ্রমিক নিহত’—এই মর্মে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা শ্রমিকদের উত্তেজিত করে তোলে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরই কয়েকটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ সাতটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। এরপর গত শনিবার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন।

শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইপিজেড এলাকায় ঝুট (অবশিষ্ট কাপড়) ব্যবসা নিয়ে কয়েকটি পক্ষ সক্রিয়। আগে প্যাসিফিকের ঝুট বাইরে বিক্রি হতো, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব রিসাইক্লিং ইউনিটে তা ব্যবহার করে। এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে একটি মহল শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিল্প পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের দিন কিছু বহিরাগত ব্যক্তি ইপিজেড এলাকায় প্রবেশ করেন। বর্তমানে সংস্কারকাজের জন্য সিইপিজেডের মূল গেট ভেঙে ফেলা হওয়ায় সহজেই বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ হয়। শ্রমিকদের দাবি, ওই বহিরাগতরাই তাঁদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বহিরাগতরা শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে হামলা সংগঠিত করেছে।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘শ্রমিকদের মধ্যে কিছু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আছে। নিহতের ভিডিওটি ভুয়া ও পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। কারা এটি করেছে, আমরা চিহ্নিত করেছি এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাইরের কোনো ইন্ধন আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’