প্রতিবেদক: বাংলাদেশের এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশের) তালিকা থেকে উত্তরণ নিয়ে প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য ঢাকায় আসছে জাতিসংঘের একটি বিশেষ মিশন। জাতিসংঘের এলডিসি-বিষয়ক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রোনাল্ড মোলেরুসের নেতৃত্বাধীন এ মিশন ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে। বৈঠকের পর মিশনটি বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের ওপর স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন দেবে।
মিশনটি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে। ২ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীকে চিঠি পাঠিয়ে সফরের বিষয়ে জানানো হয়। জাতিসংঘের এই কার্যালয়টি মূলত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সহায়তা দেয় এবং ইউএন-ওএইচআরএলএলএস নামে পরিচিত।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করবে। তিনি আরও বলেন, উত্তরণ পেছানোর কোনো আবেদন বর্তমান সরকার করবে না, তবে আগামী নির্বাচিত সরকার চাইলে এটি করতে পারে।
সরকারের দিক থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এলডিসি উত্তরণ ৩ থেকে ৫ বছর পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং জাতিসংঘের কাছে এ পরামর্শও দিয়েছেন। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা জানতে জাতিসংঘের মিশন আসছে। উত্তরণ পিছিয়ে যাবে কি না, তা নির্ভর করছে জাতিসংঘের ওপর।”
জাতিসংঘ মিশনকে সরকারের কাছে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পাঠাতে বলা হয়েছে। এটি বৈঠকগুলো সফলভাবে শেষ করতে এবং চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রণয়নে সহায়ক হবে। এর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে। এরপর ২০২১ সালে পুনঃপর্যালোচনা করা হয় এবং ২০২৬ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশকে উত্তরণের সুপারিশ করেছে।
কিন্তু ব্যবসায়ীদের অভিমত ভিন্ন। বিকেএমইএ-এর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, “বাংলাদেশের প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। উৎপাদনশীলতা কম, ব্যাংক সুদ বেশি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যাযুক্ত। এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যসুবিধা হারাবে, ফলে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, জাতিসংঘের মিশন ও সরকারের প্রস্তুতি মূল্যায়ন শেষ হলে এ বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি থেকে উত্তরণ করবে কি না, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।