প্রতিবেদক: প্রায় দুই দশক পর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ–পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) নবম বৈঠকে পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশ থেকে পাটসহ কৃষিপণ্য আমদানি বাড়াতে চায়। আজ সোমবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ এখনো এক বিলিয়ন ডলারের নিচে। এটি বাড়ানো প্রয়োজন। আমরা বাংলাদেশ থেকে পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানি বাড়াতে আগ্রহী।”
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক। সভা শেষে বাণিজ্য, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়।
দীর্ঘ বিরতির পর এই জেইসি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। সর্বশেষ বৈঠকটি হয়েছিল ২০০৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। তবে গত বছর ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে।
পাকিস্তানের মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক বলেন, “২০ বছর পর এই বৈঠক হলো, যা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণে কোথায় সম্ভাবনা আছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “সভায় আকাশ ও নৌপথে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে নৌ মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও তথ্যপ্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়।” তিনি সভাটিকে ‘অত্যন্ত সফল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে ৭৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, বিপরীতে পাকিস্তানে রপ্তানি করেছে মাত্র ৮ কোটি ডলারের পণ্য। ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এখনো পাকিস্তানের পক্ষেই ঝুঁকে আছে।