প্রতিবেদক: ব্যাংকে টাকা জমা রাখলে নির্দিষ্ট সময় শেষে মূল টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু অর্থ পাওয়া যায়, যাকে বলা হয় সুদ। এটি মূলত টাকার ব্যবহারের মূল্য। তবে সুদ গণনার পদ্ধতি সব সময় একরকম নয়। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সাধারণত কয়েক ধরনের সুদ প্রচলিত—সরল সুদ, চক্রবৃদ্ধি সুদ, নমিনাল সুদ এবং কার্যকর সুদ। অনেক সময় ইসলামি ব্যাংকগুলো ‘সুদ’ শব্দের পরিবর্তে মুনাফা শব্দটি ব্যবহার করে।
সরল সুদ এমন এক ধরনের সুদ, যেখানে শুধুমাত্র মূল টাকার ওপর হিসাব করা হয়। সময় যত বাড়ে, সুদের অঙ্ক বাড়ে ঠিকই, কিন্তু হিসাবের ধরন অপরিবর্তিত থাকে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ১০ হাজার টাকা ব্যাংকে রাখেন এবং বার্ষিক সুদের হার ১০ শতাংশ হয়, তাহলে এক বছরে সুদ হবে ১ হাজার টাকা এবং দুই বছরে হবে ২ হাজার টাকা—কারণ প্রতিবারই মূল টাকা হিসেবে ধরা হচ্ছে একই ১০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, চক্রবৃদ্ধি সুদে প্রথমে মূল টাকার ওপর সুদ হিসাব করা হয়, তারপর সেই সুদ মূল টাকার সঙ্গে যোগ হয়ে নতুন মূল তৈরি করে। পরবর্তী সময়ের সুদ সেই নতুন মূলের ওপর গণনা করা হয়। ফলে সময় যত বাড়ে, সুদও দ্রুত বাড়ে। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম বছর শেষে ১০ হাজার টাকার ওপর সুদ হলো ১ হাজার টাকা। দ্বিতীয় বছরে হিসাব হবে ১১ হাজার টাকার ওপর, ফলে দ্বিতীয় বছরের সুদ আগের বছরের তুলনায় বেশি হবে।
চক্রবৃদ্ধি সুদ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় পরিকল্পনা যেমন ডিপিএস, মেয়াদি আমানত বা বিভিন্ন সঞ্চয় স্কিমে ব্যবহৃত হয়। এর কয়েকটি কারণ হলো—এতে সঞ্চয়কারীরা দীর্ঘ মেয়াদে বেশি লাভবান হন, ব্যাংক সহজে আমানত ধরে রাখতে পারে, এবং মাসিক, ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে সুদ যোগ করা যায়।
নমিনাল ও কার্যকর সুদ–এর মধ্যে পার্থক্যও জানা জরুরি। ব্যাংক যখন কোনো সুদের হার ঘোষণা করে, সেটিকে বলা হয় নমিনাল সুদ। এতে চক্রবৃদ্ধির প্রভাব ধরা থাকে না। কিন্তু কার্যকর সুদ হলো আপনি শেষ পর্যন্ত প্রকৃতপক্ষে কত পাচ্ছেন—অর্থাৎ এতে চক্রবৃদ্ধির প্রভাব অন্তর্ভুক্ত থাকে। চক্রবৃদ্ধি যত ঘন ঘন হয়, কার্যকর সুদের হার তত বেশি হয়।
সবশেষে, ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোতে ‘সুদ’ শব্দের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় মুনাফা। কারণ, ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গ্রাহককে ব্যাংকের ব্যবসায় অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে ব্যাংক কোনো নির্দিষ্ট সুদ দেয় না, বরং ব্যবসায়িক মুনাফার অংশ হিসেবেই গ্রাহক লাভ পান। যদিও ফলাফলের দিক থেকে গ্রাহকের হাতে আসে মূল টাকার চেয়ে বেশি, তবুও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে একে মুনাফা বলা হয়, সুদ নয়।