প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এখন থেকে যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই সুযোগ তৈরি হলো ব্যাংকের এমডি–সিইও নিয়োগসংক্রান্ত নীতিমালায় নতুন বিধান যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিষয়ে একটি আদেশ জারি করে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অন্তত ২৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং তাঁরা হতে হবে প্রথম শ্রেণি বা জাতীয় বেতন কাঠামোর দ্বিতীয় গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্বাহী পরিচালক (ইডি) বা সমমানের কর্মকর্তারাই এই সুযোগ পাবেন। ইডির নিচের কোনো পদধারী কর্মকর্তা আবেদন করতে পারবেন না।
বর্তমানে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর শীর্ষ পদে অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছর, আর ব্যাংকের এমডি–সিইওর বয়সসীমা ৬৫ বছর পর্যন্ত। ফলে অবসরে যাওয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা আরও পাঁচ বছর পর্যন্ত এমডি পদে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে নিয়োগ অবশ্যই নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হবে।
২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির পরিপত্রে বলা হয়েছিল, এমডি বা সিইও হতে হলে কমপক্ষে ২০ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা এবং প্রধান নির্বাহীর আগের পদে অন্তত ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নতুন পরিপত্রে এই অনুচ্ছেদটি পরিবর্তন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, যারা ব্যাংকিং পেশায় আছেন, তাঁদের জন্য ২০ বছরের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে অন্তত ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ব্যাংক খাতে অভিজ্ঞ ও যোগ্য এমডি–সিইওর ঘাটতি থাকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী দক্ষ ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন যারা ব্যাংক পরিচালনায় সক্ষম এবং যোগ্য হলেও আগে সুযোগটি পাননি।
ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, নতুন নিয়মে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, যদি এমডি নিয়োগের প্যানেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রার্থী এবং বেসরকারি ব্যাংকের একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকেন, তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে পক্ষপাতের আশঙ্কা থাকতে পারে।
এ ছাড়া ব্যাংকের পর্ষদও সাবেক নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন, কারণ তাঁদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ও সুবিধা পাওয়া সহজ হতে পারে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, নতুন বিধানের ফলে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা বাড়বে এবং এমডি–সিইও পদের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে। তবে স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা আছে কি না, তা গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ পদের চ্যালেঞ্জ ভিন্ন এবং কঠিন।
অতীতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি হয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিক বিধান ছিল না। এবার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সুযোগ তৈরি হলো।