প্রতিবেদক: ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফলতা পেয়েছে। দেশটির খুচরা মূল্যস্ফীতির হার অক্টোবর মাসে ০.২৫ শতাংশে নেমে গেছে, যা এক দশমিক এক শতাংশের নিচে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যের দাম কমার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে করছাড় এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপের কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তবে ভারতের বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এলেও বাংলাদেশে তা এখনও ৮ শতাংশের ঘরে। অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮.১৭ শতাংশ হলেও এখনও জনজীবনে প্রভাব তেমন পড়ছে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুসারে, কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতির রাশ টানতে নীতি সুদ বাড়িয়েছে, যা বর্তমানে ১০ শতাংশ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের বাজারে মূল্যস্ফীতি কমাতে কেবল মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয়। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন নীতি সুদহার কমানোর পক্ষপাতী। তাদের মতে, উচ্চ সুদের কারণে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাচ্ছে এবং অর্থনীতিতে গতি আসছে না।
বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতির পাশাপাশি সংগতিপূর্ণ রাজস্বনীতি প্রণয়ন এবং বাজার ব্যবস্থাপনা করা জরুরি।
ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতির হার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৪ শতাংশের নিচে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির সর্বোচ্চ সহনসীমা ৬ শতাংশ হলেও, ভারত টানা সাত মাস এই সীমার নিচে রয়েছে। অক্টোবর মাসে ৪২ জন অর্থনীতিবিদের ওপর করা রয়টার্স জরিপ অনুযায়ী, তাদের প্রত্যাশা ছিল ০.৪৮ শতাংশ, কিন্তু বাস্তবে হয়েছে মাত্র ০.২৫ শতাংশ। ২০১৫ সালের পর এটিই ভারতের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্যস্ফীতি।
সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটি হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেয়। শতাধিক ভোগ্যপণ্যের ওপর কর কমানো হয়, যার মধ্যে দুগ্ধজাত দ্রব্য, সাবান, টুথপেস্ট ও অন্যান্য ব্যক্তিগত যত্নপণ্য অন্তর্ভুক্ত। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশীয় চাহিদা বৃদ্ধি এবং রপ্তানিতে অনিশ্চয়তার প্রভাব মোকাবিলা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল।
মূল্যস্ফীতি কমার ফলে গৃহস্থালি বাজেটের চাপ কমছে, মানুষের খরচ করার সামর্থ্য বাড়ছে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচক। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রায় ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে আশা করা হচ্ছে, আরবিআই নীতি সুদ আবারও কমাবে এবং অর্থনীতিতে আরও গতি আসবে।
খাদ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অক্টোবর মাসে খাদ্য মূল্যসূচক কমেছে ৫.০২ শতাংশ, বিশেষ করে সবজির দাম কমেছে ২৭.৫৭ শতাংশ। আগের মাসে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে এই হ্রাস ছিল ২১.৩৮ শতাংশ। দুধ, ডিম ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যের দামও সামান্য কমেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি এবং সরকারের হস্তক্ষেপমূলক নীতির কারণে এই ফলাফল এসেছে।
মূল্যস্ফীতির নিম্নহার স্বস্তিদায়ক হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের অস্থিরতা এবং আসন্ন উৎসব মৌসুমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে ভারতের মূল্যস্ফীতিও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
খাদ্যদ্রব্যের দাম কমানো, জিএসটি হ্রাস এবং স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে অক্টোবর মাসে ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতি ঐতিহাসিকভাবে নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। এতে ভারতীয় ভোক্তারা স্বস্তি পেয়েছেন, আর অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।