প্রতিবেদক: দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ব্যবসায়ী ও অংশীজনরা উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ভোক্তা অধিকারের সুরক্ষায় নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আয়োজিত সেমিনারে তারা এ বার্তা দেন।
সেমিনারের প্রধান বিষয় ছিল ‘ভোক্তা অধিকার রক্ষায় অংশীজনদের সমন্বিত ভূমিকা’। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের পরিচালক আব্দুল জলিল। আলোচনা সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজার অভিযান কার্যক্রম ইতিবাচক হলেও কখনো কখনো সৎ ব্যবসায়ীরাও সামাজিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এজন্য অভিযানে সহনশীলতা ও ব্যবসায়ীদের মতামত শোনার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা আরও জানান, উৎপাদন থেকে ভোক্তাদের হাতে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত একাধিক স্তরে হাতবদল হওয়ায় গুণগত মান ও দামে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। মাননিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরদারি দুর্বল থাকায় ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানি পোহাতে হচ্ছে। তাই অতিমুনাফাকারীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং বাজার সমিতিগুলোকে ভোক্তা স্বার্থে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় মহাপরিচালক আলীম আখতার খান বলেন, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ এবং ভোক্তার তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, আইনগত কাঠামোর মাধ্যমে ভোক্তার অধিকার সুরক্ষায় অংশীজনদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ।
বাজার সংশ্লিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকরা নামকরা ব্র্যান্ডের ভোজ্যতেল ব্যবহার করলেও অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের প্রত্যয়নপত্র নবায়নে গড়িমসি করলেও ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়। ব্যবসায়ী নেতারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতি সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পসমিতির প্রতিনিধিরা সতর্ক করেছেন, বাজারে মানহীন ওষুধের সয়লাব ও ঔষধের গুণগত মান রক্ষার জন্য উৎপাদন পর্যায় থেকেই কঠোর নজরদারি জরুরি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট আইন ও শাস্তির বিধান সম্বলিত লিফলেট ফার্মেসি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে রাখার পরামর্শ দেন তারা।
অধিদপ্তরের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সীমাবদ্ধতা থাকলেও অধিদপ্তরের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং ভোক্তাদের আস্থা অর্জন ইতিবাচক। সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, ভোক্তা সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।