প্রতিবেদক: রাজধানীর ব্যস্ততম মেট্রোরেল এখন শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং ব্যাংকিং সেবারও নতুন প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশনে এটিএম ও সিআরএম (ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন) বুথ স্থাপন করছে। ইতিমধ্যে ১০টি ব্যাংক মোট ৬৬টি বুথ চালু করেছে, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ যাত্রী চলাচল করে।
ব্যাংকাররা বলছেন, সাধারণত বুথ বসানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, নিরাপত্তা ও খরচ বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে মেট্রোস্টেশনে বুথ বসানোর ক্ষেত্রে যাত্রীদের অধিকাংশই কোনো না কোনো ব্যাংকের গ্রাহক—এই অনুমানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকায় গ্রাহকেরা আরামদায়ক পরিবেশে লেনদেন করতে পারেন। নিরাপত্তাকর্মী বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের প্রয়োজন না থাকায় খরচও কম। তবে সীমাবদ্ধতাও আছে—স্টেশন খোলা থাকাকালীন সময়েই বুথ থেকে সেবা পাওয়া যায় (প্রায় ১৪ ঘণ্টা), আর বন্ধের দিনে সময় আরও কমে যায়।
২০২৪ সালের জুনে আগারগাঁও স্টেশনে প্রথম এটিএম বুথ চালু করে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)। এরপর ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকও এগিয়ে আসে। ইবিএল ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ইতিমধ্যে ১৬টি স্টেশনেই বুথ চালু করেছে।
ডিএমটিসিএলের দরপত্রে অংশ নিয়ে ১৬টি স্টেশনের বুথ পরিচালনার কাজ পেয়েছে ঢাকা ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ইউসিবি, ইসলামী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক। এর মধ্যে ঢাকা ব্যাংক ২টি, এনসিসি ব্যাংক ১০টি, ইউসিবি ৮টি, ইসলামী ব্যাংক ১টি, সিটি ব্যাংক ১টি ও ট্রাস্ট ব্যাংক ৬টি স্টেশনে বুথ চালু করেছে। মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক ৩টি করে স্টেশনে বুথ চালু করেছে। সোনালী ব্যাংক ১০টি স্টেশনের অনুমতি পেলেও এখনো সেবা চালু করেনি।
ঢাকা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক মেট্রোস্টেশনে সিআরএম বসাচ্ছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক সিআরএম ও এটিএম দুটোই বসাচ্ছে, অন্যরা শুধু এটিএম স্থাপন করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এটিএমের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে, আর সিআরএমের সংখ্যা বাড়ছে। সিআরএমের মাধ্যমে টাকা জমা ও উত্তোলন দুটোই সম্ভব হওয়ায় এটি গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জুন ২০২৪ শেষে দেশে সিআরএম ছিল ৭,৪১১টি (মে মাসে ছিল ৭,৩৪৫টি)। একই সময়ে এটিএমের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১২,৯১৮টিতে। জুনে এটিএমে লেনদেন হয়েছে ২৪,৭৭৮ কোটি টাকা এবং সিআরএমে ১৭,৯২৮ কোটি টাকা।
সাধারণত একটি এটিএম বুথ চালাতে মাসে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়, যার বড় অংশ নিরাপত্তা ও এসির পেছনে যায়। মেট্রোস্টেশনে বুথ চালাতে খরচ কমে দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ হাজার টাকায়, যার মধ্যে ৪০ হাজার টাকা ভাড়া বাবদ ডিএমটিসিএলকে দিতে হয়। বর্তমানে বুথ ভাড়া থেকে ডিএমটিসিএল প্রতি মাসে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা আয় করছে।
সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অরূপ হায়দার জানান, স্টেশনে বুথ পরিচালনায় খরচ কম, নিরাপত্তা ঝুঁকিও কম। তাদের লক্ষ্য সব স্টেশনে দ্রুত বুথ চালু করা। ঢাকা ব্যাংকের রিটেইল ব্যবসা বিভাগের প্রধান এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যাত্রী ও দর্শনার্থীরা যাতায়াতের সময়েই নগদ অর্থ উত্তোলন, জমা, বিল পরিশোধসহ নানা সেবা পাচ্ছেন—যা মেট্রোস্টেশনের ব্যাংকিং বুথের মূল সাফল্য।