প্রতিবেদক:বাংলাদেশে একজন করদাতাকে তাঁর বার্ষিক আয়কর রিটার্নে সারা বছরের আয়ের উৎসগুলো দেখাতে হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতার মোট আয় নির্ধারণের জন্য আয়ের ধরনকে মোট ১০টি খাতে ভাগ করেছে। রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এই ১০ খাতের মধ্যে যে–যে খাতে আয় হয়েছে, সেগুলো আলাদা করে উল্লেখ করতে হয়। তবে সব খাতেই আয় থাকা বাধ্যতামূলক নয়; একজন করদাতার যেসব খাতে আয় রয়েছে, কেবল সেগুলোই রিটার্ন ফরমে উল্লেখ করলেই যথেষ্ট। আইটি ১১গ (২০২৩) রিটার্ন ফরম একজন করদাতাকে খাতভিত্তিক আয় দেখিয়ে মোট আয় নির্ধারণে সহায়তা করে। এ বছরের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর।
রিটার্নে যে ১০ খাতের আয় দেখাতে হয় তার মধ্যে রয়েছে—চাকরি থেকে পাওয়া বেতন, ভাতা, বোনাস ও অন্যান্য পারিশ্রমিকের আয়। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকানসহ যেকোনো সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে পাওয়া আয়কে আলাদা খাতে উল্লেখ করতে হয়। কৃষি খাতে জমি, ফসল, ফল, সবজি বা পশুপালন থেকে হওয়া আয় রিটার্নে যোগ করতে হবে। ব্যবসা বা পেশাগত কার্যক্রম—যেমন চিকিৎসা, আইন, পরামর্শকতা—থেকে পাওয়া আয়ও আলাদা খাতে দেখাতে হয়। মূলধনি সম্পদের ব্যবহার থেকে পাওয়া সুদ, ভাড়া, রয়্যালটি বা মুনাফা মূলধনি আয়ের অন্তর্ভুক্ত। আর্থিক পরিসম্পদ থেকে প্রাপ্ত ব্যাংক সুদ, লভ্যাংশ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা অথবা সিকিউরিটিজ থেকে পাওয়া আয়ও আলাদা খাতে উল্লেখ করতে হয়।
এ ছাড়া রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, সম্মানী, সরকারি নগদ ভর্তুকিসহ যেকোনো বিচ্ছিন্ন আয় “অন্যান্য উৎস” খাতে দেখানো হয়। পার্টনারশিপ ব্যবসা বা ব্যক্তিসংঘ থেকে সদস্য হিসেবে যে মুনাফা পাওয়া যায়, সেটিও একটি নির্দিষ্ট খাতে যোগ করতে হয়। পরিবারের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বা করদাতা নন এমন স্ত্রী/স্বামীর করযোগ্য আয় করদাতার সঙ্গে যুক্ত হলে তা আলাদা খাতে উল্লেখ করতে হয়। আর বিদেশে চাকরি, বিনিয়োগ বা সম্পদ থেকে হওয়া করযোগ্য আয় থাকলে সেটিও রিটার্নে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এই ১০ খাতের তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করলে করদাতার মোট আয় নির্ধারিত হয় এবং নির্ধারিত নিয়মে কর আরোপ করা হয়।