শ্রম আইন নিয়ে হুঁশিয়ারি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা

প্রতিবেদক: সামাজিক সংলাপ ছাড়া শ্রম আইন সংশোধন টেকসই হবে না; বরং এতে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থতা দেখা দিতে পারে। শিল্প খাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা জরুরি হলেও দেশের বাস্তবতা ও সক্ষমতা উপেক্ষা করে আইন চাপিয়ে দিলে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) কার্যালয়ে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিইএফ সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ, এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং আইএলও ও বিজিএমইএর শ্রমবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এ এন এম সাইফুদ্দিন প্রমুখ।

বিইএফ সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, পাঁচ হাজার শ্রমিকের কারখানায় যদি মাত্র ২০ জন মিলে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করে, তবে তা পুরো শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করবে না। আবার সর্বোচ্চ পাঁচটি ইউনিয়ন করার সুযোগ থাকলে মাত্র ১৫০ জন শ্রমিক মিলে পাঁচটি ইউনিয়ন গঠন করতে পারবে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শিল্পে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে সময়মতো ক্রয়াদেশ সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, অতীতে কম্বোডিয়ায় শ্রম অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগ কমেছিল এবং তখন ভিয়েতনাম সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছিল।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষই যখন এ ধরনের প্রস্তাবের বিপক্ষে, তখন কার স্বার্থে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ভিয়েতনাম ও ভারতে এ ধরনের চাপ নেই। ভিয়েতনামে মাত্র একটি রাষ্ট্র–নিয়ন্ত্রিত ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে কারখানার জেনারেল ম্যানেজারই ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবুও সেখানে শ্রমিকদের অধিকার অক্ষুণ্ন রয়েছে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ১০০ শ্রমিক থাকলেই ভবিষ্য তহবিল চালুর প্রস্তাব কতটা যৌক্তিক, তা আবার ভেবে দেখা উচিত।

এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের শ্রমবাজারে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ কর্মরত আছেন। এর মধ্যে মাত্র ১ থেকে ১.২ কোটি শ্রমিক আনুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, বাকিরা অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। অথচ বিদ্যমান শ্রম আইন মূলত আনুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অধিকার নিয়েই সীমাবদ্ধ।

বিইএফ সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ বলেন, শ্রম আইন সংশোধন প্রক্রিয়ায় সামাজিক সংলাপের অভাব ছিল। একাধিক দুর্বল সংগঠন তৈরির পরিবর্তে একটি বা দুটি কার্যকর ও শক্তিশালী শ্রমিক সংগঠন গঠন করাই বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে।