প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরে সরকারি পর্যায়ে সব ধরনের যানবাহন কেনা বন্ধ থাকবে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের যেসব গাড়ি ১০ বছরের বেশি পুরোনো, সেগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিস্থাপন (রিপ্লেস) করা যাবে।
একই সঙ্গে সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণও স্থগিত থাকবে। তবে একান্ত প্রয়োজনীয় বিবেচনায় সীমিত পরিসরে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর জারি করা পরিপত্র অনুসরণ করতে হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ গতকাল সোমবার এ–সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট প্রাক্কলন অবশ্যই মূল বাজেটের ব্যয়সীমার (পরিচালন ও উন্নয়ন) মধ্যে রাখতে হবে। কোনোভাবেই প্রাক্কলিত বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা যাবে না।
এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ খাতে পরিচালন বাজেটের বরাদ্দ ব্যয় বন্ধ থাকবে। তবে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় অধিগ্রহণ কার্যক্রমের অর্থ অর্থ বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে।
‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া অর্থও মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলোর জন্য ‘থোক বরাদ্দ’ হিসেবে ব্যয় করা যাবে, তবে সেক্ষেত্রেও অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা’ খাত থেকে বরাদ্দ দেওয়া হলে তা সংশোধিত বাজেটে প্রতিফলিত করতে হবে।
চলমান প্রকল্পগুলোর জন্য প্রাক্কলনে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, তবে অননুমোদিত নতুন কোনো স্কিমের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা যাবে না।
সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রণয়নের সময় প্রকল্পের সংখ্যা সীমিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ দিয়ে অগ্রাধিকার প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। বরাদ্দবিহীনভাবে কোনো প্রকল্প সংশোধিত এডিপির মূল অংশে রাখা যাবে না।
অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী,বৈদেশিক ঋণ বা অনুদানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প,প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্বাসন–সম্পর্কিত প্রকল্প, এবংচলতি অর্থবছরে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণ বা অনুদান চুক্তি সম্পাদিত প্রকল্পগুলোকে সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির সময় অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
ধীরগতির প্রকল্প থেকে বরাদ্দ কমিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ু, কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, এবং দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্বাসন–সংশ্লিষ্ট প্রকল্প।