সারা বছর সবজি, উৎপাদন ও বীজ শিল্পে রেকর্ড বৃদ্ধি

প্রতিবেদক: একসময় দেশের বাজারে শুধু শীতকালে শিম, টমেটো, লাউ ও মিষ্টিকুমড়ার মতো সবজি পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে লাউ, শসা, বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, লালশাক, পালংশাক ও পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবজি বছরজুড়ে পাওয়া যাচ্ছে। শুধু সময়ের বিস্তৃতি নয়, ফলনও বেড়েছে। গত এক দশকে শাকসবজি উৎপাদন বেড়েছে প্রায় এক কোটি টন, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫–১৬ অর্থবছরে সবজির উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৫২ লাখ টন। পাঁচ বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ১ কোটি ৯৭ লাখ টনে উন্নীত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে উৎপাদন দাঁড়ায় আড়াই কোটি টনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোক্তাদের চাহিদা, কৃষকের আগ্রহ ও উন্নত জাতের বীজ ফলনের বৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে।

দেশে সবজিবীজের চাহিদা বছরে প্রায় ৩ হাজার ৬০ টন, যার ৮৫ শতাংশ সরবরাহ করে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। বাকি ১৫ শতাংশ কৃষকেরা নিজেদের উৎপাদিত বীজ থেকে সংগ্রহ করেন। বীজ বাজারের আকার আনুমানিক ৩ হাজার কোটি টাকার।

বেসরকারি খাতের লালতীর, সুপ্রিম, এসিআই, মেটাল, মাসুদ, এআর মালিক, ইউনাইটেড, ব্র্যাক সীড, ইস্পাহানি ও জামালপুর সীড দেশের বাজারের প্রায় ৭০–৭৫ শতাংশ দখল করে রেখেছে। লালতীর কোম্পানি দেশের পাশাপাশি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে বীজ রপ্তানি করছে। এসিআই সীড, সুপ্রিম সীড ও এআর মালিক সীডস ইভেট লিমিটেডও বড় বাজারভিত্তি গড়ে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন জাতের বীজ উদ্ভাবন এবং বাণিজ্যিক চাষে তরুণদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কিছু নিম্নমানের বীজ আমদানির কারণে কৃষকের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়ে গেছে। বাংলাদেশ সীড অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা আনোয়ার ফারুক জানান, ভালো মানের বীজ ব্যবহার করলে উৎপাদন ২০–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী সবজি উৎপাদন ১.২ বিলিয়ন টন বা ১২০ কোটি টনে পৌঁছেছে, যা ২০১০ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। এই প্রবণতা বাংলাদেশের সবজি উৎপাদন ও বীজ শিল্পের জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করছে।