১৫ বছরে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করল সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, মুনাফা বেড়েছে ৬৩ শতাংশ

প্রতিবেদক: দেশের আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত কনটেইনার ব্যবস্থাপনা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট (এসএ পোর্ট) এর মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারধারীদের ১৮ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে একজন শেয়ারধারী পাবেন ১ টাকা ৮০ পয়সা করে লভ্যাংশ।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয় এবং একই সভায় গত অর্থবছরের লভ্যাংশ ঘোষণা দেওয়া হয়। কোম্পানির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছর শেষে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের (২০২৩–২৪) ৪১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি। মুনাফা বৃদ্ধির কারণে ২০১০ সালের পর এবারই সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১০ সালে কোম্পানিটি ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল, তবে এবার তা সম্পূর্ণ নগদ লভ্যাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের আমদানি–রপ্তানি ক্রমাগত বাড়ায় কনটেইনার ব্যবস্থাপনা সেবার চাহিদাও সমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের আশপাশে ১৯টি বেসরকারি ডিপো সক্রিয় থাকলেও এর মধ্যে মাত্র ৬টি ডিপো অধিকাংশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বেসরকারি ডিপোগুলো ৮ লাখ ৩০ হাজার একক কনটেইনার ব্যবস্থাপনা করেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৭ লাখ ৮ হাজার একক — ফলে খাতটির প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

এই খাতে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এর অবস্থান তৃতীয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম ৯ মাসে ৯২ হাজার ৬৭০ একক কনটেইনার ব্যবস্থাপনা করেছে, যা ১১ শতাংশ বাজার হিস্যা। এছাড়া, ১ সেপ্টেম্বর রপ্তানি খাতের সাতটি সেবার মাশুল একলাফে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়, যার ফলে ডিপোগুলোর বার্ষিক আয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এসএ পোর্ট ২০০৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এবং বর্তমানে এটি ‘এ’ শ্রেণির ভালো মানের কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত। সর্বশেষ অক্টোবর শেষে কোম্পানিটির ৫৯ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা–পরিচালকদের হাতে, ২৬ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের, সাড়ে ১১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এবং সাড়ে ৩ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় সাড়ে ৪৭ টাকা।