প্রতিবেদক: আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে বাস, ট্রাক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহনের অগ্রিম আয়কর (এআইটি) বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রস্তাব করেছে, বর্তমান ৪ হাজার থেকে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকার জায়গায় কর হার বাড়িয়ে সাড়ে ৭ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হোক। এটি গত ছয় বছরে প্রথমবারের মতো এ খাতে কর বৃদ্ধির প্রস্তাব। সর্বশেষ ২০১৯ ও ২০১৪ সালে কর হার পরিবর্তন করা হয়েছিল।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ২ জুন বাজেট বক্তৃতায় এই নতুন কর কাঠামোর ঘোষণা দেন। এতে ১৩টি ক্যাটাগরির বাণিজ্যিক মোটরযান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কর আদায় হবে প্রতিবছর যানবাহনের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের সময় বিআরটিএর মাধ্যমে। প্রস্তাবিত কর হার অনুযায়ী, ৫২ আসনের বেশি বাসের কর ১৬ হাজার থেকে ২৫ হাজার, এবং তার নিচে আসনের বাসের কর সাড়ে ১১ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হতে পারে।
এছাড়া, এসি বাসের কর বাড়িয়ে সাড়ে ৩৭ হাজার থেকে ৫০ হাজার, দোতলা বাস ও এসি মিনিবাসের কর ১৬ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা হতে পারে। নন-এসি মিনিবাসের প্রস্তাবিত কর সাড়ে ১২ হাজার, প্রাইম মুভারের ২৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩৫ হাজার টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারী ট্রাক, লরি, ট্যাংকারের কর ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩০ হাজার, মাঝারি যানবাহনের কর সাড়ে ৯ হাজার থেকে ১৫ হাজার এবং হালকা গাড়ির কর ৪ হাজার থেকে বেড়ে সাড়ে ৭ হাজার টাকা হতে পারে। ট্যাক্সি ক্যাব ও থ্রি-হুইলারের ক্ষেত্রেও একই হারে কর বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এই প্রস্তাবে পরিবহন মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সচিব শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ জানান, কর বাড়লেও আয় না বাড়ায় খরচ বহন কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “ভাড়া না বাড়িয়ে কর দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। এটি আমাদের জন্য আর্থিক ধাক্কা এবং আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”
অনেক পরিবহন মালিক মনে করছেন, এই কর বৃদ্ধির বোঝা শেষ পর্যন্ত যাত্রী ও পণ্যের খরচের ওপর প্রভাব ফেলবে। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাস মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা জানি না কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, কেউ পরামর্শ করেনি, কোনো বৈঠক হয়নি। মনে হচ্ছে, পুরো পরিবহন খাতকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।”
তবে এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, এই অগ্রিম কর মূল আয়কর থেকে সমন্বয়যোগ্য হওয়ায় বাড়তি ভাড়া চাপানোর যৌক্তিকতা নেই। একজন রাজস্ব বোর্ড কর্মকর্তা বলেন, “ছয় বছর কর হার অপরিবর্তিত ছিল, তাই এটি বাড়ানো যৌক্তিক। কর বাড়লে মুনাফা কমতে পারে, কিন্তু সরাসরি যাত্রীদের ওপর চাপানো ঠিক নয়।”
ট্যাক্স বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, “যদি প্রকৃত কর অগ্রিম করের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে কর বোঝা বাড়বে না। তবে প্রকৃত কর কম হলে অগ্রিম কর খরচ বাড়িয়ে দেবে, যেটি মালিকরা যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন।”
এদিকে, আগামী ২২ জুন সংসদে বাজেট পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ১ জুলাই থেকে নতুন কর হার কার্যকর হতে পারে। পরিবহন মালিকদের দাবি, সরকার যেন এই প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করে, কারণ এটি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।