প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষায়িত অঞ্চলের রপ্তানিকারকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ নীতিমালা সহজ করেছে। নতুন প্রজ্ঞাপনের আওতায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কের ‘টাইপ বি’ ও ‘টাইপ সি’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাক-টু-ব্যাক আমদানি দায় পরিশোধের জন্য রপ্তানি আয়ের একটি অংশ বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে সংরক্ষণ করতে পারবে। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এই নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
‘টাইপ বি’ প্রতিষ্ঠান বলতে বোঝানো হচ্ছে বিদেশি ও বাংলাদেশি যৌথ মালিকানার প্রতিষ্ঠানগুলোকে, আর ‘টাইপ সি’ হলো শতভাগ বাংলাদেশি মালিকানার কোম্পানি। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয়ের কমপক্ষে ২০ শতাংশ (তৈরি পোশাক খাতে ২৫ শতাংশ) বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে জমা রাখা যাবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ব্যাক-টু-ব্যাক আমদানি দায় পরিশোধ এবং স্থানীয় মূল্য সংযোজন—উভয় ক্ষেত্রেই রপ্তানি আয়ের অর্থ সংরক্ষণ করা যাবে। মূল্য সংযোজনের অংশ সর্বোচ্চ ৩০ দিন বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবেই রাখা যাবে, এরপর তা নগদায়ন করে টাকায় রূপান্তর করতে হবে। এছাড়া, যেসব রপ্তানিকারক ব্যাক-টু-ব্যাক পদ্ধতি ব্যবহার না করেও রপ্তানি করেন, তারাও প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ৩০ দিনের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ করতে পারবেন।
এই ৩০ দিনের মধ্যে অব্যবহৃত অর্থ অন্য ব্যাংকে হস্তান্তর করে বিশেষায়িত অঞ্চলের সহযোগী বা অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের আমদানি দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। অব্যবহৃত অর্থ ব্যাক-টু-ব্যাক পদ্ধতির মতো নগদায়ন করে অবশিষ্ট অংশ রপ্তানিকারকের বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব (এফসি) হিসেবে স্থানান্তর করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ বিশেষায়িত ও অবিশেষায়িত অঞ্চলের মধ্যে নীতিগত সমতা ফিরিয়ে আনবে, লেনদেন কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনাকে জোরদার করবে।