প্রতিবেদক: ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই প্রাইম ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন ও উত্তম ব্যবস্থাপনা চর্চা করে আসছে। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিংয়েও শীর্ষ ব্যাংকের মর্যাদা পায় প্রতিষ্ঠানটি।
শুরুর পর থেকে ব্যাংকটি নিয়মিত নতুন পণ্য ও সেবা চালু করেছে এবং গ্রাহকসেবায় দক্ষতা দেখিয়েছে। বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ, যার মধ্যে প্রায় ৪ লাখ নারী। কর্মকর্তা সংখ্যা ২,৯৬৮ জন, এর মধ্যে ৭১০ জন নারী—যা দেশের ব্যাংক খাতে সর্বোচ্চ নারী কর্মী অনুপাত।
আমানত বৃদ্ধি ২০০৮ সালে আমানত ছিল ৮,৮০২ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের শেষে বেড়ে হয় ৩৫,৮৬৮ কোটি টাকা।
ঋণ বিতরণ ২০০৮ সালে ঋণ ছিল ৭,৫১৫ কোটি টাকা; ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪,৩৪৬ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের হার ৪.২২%।
মুনাফা বৃদ্ধি ২০০৮ সালে মুনাফা ছিল ১২৩ কোটি টাকা, যা ওঠানামার পর ২০২৪ সালে বেড়ে হয় ৭৪৫ কোটি টাকা।
সম্পদ ২০২৪ সালে মোট সম্পদ দাঁড়ায় ৫৪,৮১১ কোটি টাকা; শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ৩৪ টাকা, ইপিএস ৬ টাকা ৫৮ পয়সা।
দেশব্যাপী প্রাইম ব্যাংকের রয়েছে ১৪৭টি শাখা, ১৫৮টি এটিএম বুথ ও ১৫২টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট। বিশ্বের ৬৪ দেশের ৩০৫টি ব্যাংকের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তি আছে। অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাপ মাই প্রাইম–এ নিবন্ধিত গ্রাহক আড়াই লাখ; বছরে লেনদেন হয় প্রায় ৬০ লাখ বার। ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা “হাসানাহ”–ও চালু আছে।
প্রাইম ব্যাংকের নিজস্ব চক্ষু হাসপাতাল, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও নার্সিং কলেজ রয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে দল গঠন ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তরুণ খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
ঋণের প্রায় ৬০% বড় শিল্প গ্রুপগুলোকে, ১৫% ভোক্তা ও এসএমই খাতে এবং ৯% সেবা খাতে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এসএমই ও ভোক্তা ঋণে গুরুত্ব বাড়াচ্ছে ব্যাংকটি।
প্রতিষ্ঠার সময়কার উদ্যোক্তাদের প্রথম প্রজন্মের পাশাপাশি এখন দ্বিতীয় প্রজন্মও পরিচালনায় যুক্ত হয়েছে। অধিকাংশ পরিচালক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হওয়ায় দৈনন্দিন কার্যক্রমে অযথা হস্তক্ষেপ কম, ফলে সুশাসন বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।