রাজধানীতে সবজির দাম চড়ে আকাশছোঁয়া, বেগুন কেজি ২০০ টাকা

প্রতিবেদক: রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার সবজি কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েন গৃহিণী লাবনী আক্তার। এক দোকানে গোল বেগুনের দাম শোনেন কেজিপ্রতি ২০০ টাকা। এত বেশি দাম দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। পরে তিনি আরেকটি দোকান থেকে তিন-চার দিন আগের আনা কম মানের বেগুন কেনেন ১২০ টাকায়। লাবনী আক্তার বলেন, বাজারে হঠাৎ সবজির দাম বেড়ে গেছে। সীমিত আয়ের সংসারে অতিরিক্ত খরচ পড়লেই অন্য খাতে টান পড়ে যায়। সবজির মূল্যবৃদ্ধি আসলেই আমাদের জন্য কষ্টের।

মাছ-মাংসের দাম বেশি হলে সাধারণত মানুষ সবজির দিকে ঝোঁকে। কিন্তু বর্তমানে সবজির দামও বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের অস্বস্তি বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ বেশি সংকটে পড়েছেন।

গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল, আগারগাঁও তালতলা, কাঁঠালবাগান ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম এখন ৮০ টাকার ওপরে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেগুনের দাম। বাজারে ১০০ টাকার নিচে কোনো বেগুন নেই, সর্বোচ্চ দাম ২০০ টাকা। অথচ তিন সপ্তাহ আগেও বেগুনের কেজি পাওয়া যেত ৬০ থেকে ১৪০ টাকায়। করলা, বরবটি, কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, আমদানি করা টমেটো ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় এবং পটোল, ঢেঁড়স, ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, কচুমুখি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। আর ৫০ টাকার নিচে রয়েছে শুধু মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে ও কাঁচকলা। এ ছাড়া লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায় এবং চালকুমড়া ৫০-৭০ টাকায়। কাঁচা মরিচের দাম প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৪০ টাকা।

শুধু সবজি নয়, শাকসবজির দামও বেড়েছে। মানভেদে লাউশাকের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ডাঁটাশাক ৩০ টাকা, লালশাক ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং পাট, কলমি, কচু ও ঢেঁকিশাক বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। একটি কচুর ডাঁটা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। কয়েক সপ্তাহ আগেই এসব শাকের দাম ছিল ৫ থেকে ১০ টাকা কম।

কেন দাম বেড়েছে—এই প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইমরান মাস্টার বলেন, বর্তমানে লিন সিজন বা কম উৎপাদনের মৌসুম চলছে। আবহাওয়ার কারণে মাঠে সবজি চাষ কম হয়েছে, ফলে সরবরাহও হ্রাস পেয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডলও একই তথ্য জানিয়ে বলেন, আমাদের অধিকাংশ সবজি উৎপাদন হয় রবি বা শীত মৌসুমে (অক্টোবর থেকে মার্চ) এখন বৃষ্টিপাতের মৌসুম হওয়ায় মাঠে চাষ কম। আগামী অক্টোবর থেকে নতুন সবজি উৎপাদন শুরু হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমে আসবে।