প্রতিবেদক: সরকারি কোম্পানি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) নিজস্ব অর্থে কেনা দুটি জাহাজের প্রথমটি আগামী সেপ্টেম্বরে এবং দ্বিতীয়টি নভেম্বরের শেষে বহরে যুক্ত হবে। অর্থাৎ আগামী আড়াই মাসের মধ্যে নতুন দুটি জাহাজ যুক্ত হচ্ছে। বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, পাশাপাশি আরও তিনটি নতুন জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি অর্থায়নে এসব জাহাজ কেনার জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, বিশ্বের বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে নির্মাণাধীন জাহাজ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হচ্ছে। এতে কম সময়ে বহর সমৃদ্ধ হচ্ছে। নতুন তিনটি জাহাজও নির্মাণাধীন অবস্থায় কেনা হবে এবং আগামী জানুয়ারির মধ্যে বহরে যুক্ত হওয়ার আশা রয়েছে। বর্তমানে বিএসসির বহরে পাঁচটি জাহাজ আছে—তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ও দুটি বাল্ক জাহাজ। নতুন দুটি বাল্ক জাহাজ যুক্ত হলে বহর সাতটিতে উন্নীত হবে। এ থেকে বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আয় এবং ১৫০ নাবিকের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন দুটি জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত জুনে। ৩ জুন আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং দুটি প্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। গত মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসি থেকে ৯৩৬ কোটি টাকায় জাহাজ দুটি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। প্রতিটি জাহাজের পণ্য পরিবহনক্ষমতা ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টন। জাহাজ দুটি চীনের নেন ইয়াং শিপইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে। এর একটি প্রায় ৯০% সম্পন্ন এবং সেপ্টেম্বরে হস্তান্তর হবে। অপরটির কাজ ৫০% শেষ, যা নভেম্বরের শেষে হস্তান্তর হওয়ার কথা। এ মাসের ২২ তারিখে বিএসসির একটি প্রতিনিধি দল জাহাজ দুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করবে।
বিএসসি জানায়, নির্মাণাধীন জাহাজ কেনায় দ্রুত সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে। কারণ, নতুন জাহাজ নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করলে তিন বছরের বেশি সময় লাগত। তবে সরকারি খাতে এই উন্নতি সত্ত্বেও বিএসসি এখনো বেসরকারি খাতের তুলনায় পিছিয়ে আছে। ১৯৭২ সালে ‘এমভি বাংলার দূত’ জাহাজ দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে বিএসসি। ১৯৮২ সালের মধ্যে বহরে জাহাজের সংখ্যা ২৭ এবং পরে ৩৮-এ দাঁড়ায়। কিন্তু ১৯৯১ সালের পর নতুন কোনো জাহাজ যুক্ত হয়নি। পরবর্তীতে সংখ্যা কমে মাত্র দুটি হয়। ২০১৮-১৯ সালে ১,৮৪৩ কোটি টাকায় ৬টি নতুন জাহাজ কেনা হয়, তবে এর মধ্যে একটি দুর্ঘটনায় পরিত্যক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে ‘এমভি আল সালমা’ নিবন্ধনের মাধ্যমে। বর্তমানে দেশে ১৬টি বেসরকারি কোম্পানির ৯৫টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে কেএসআরএম গ্রুপের সবচেয়ে বেশি—২৮টি, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ২৫টি, এবং আকিজ শিপিংয়ের ১০টি জাহাজ। কোম্পানি হিসেবে বিএসসির অবস্থান ষষ্ঠ।
বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় অংশ সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয়। গত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১৩ কোটি টন পণ্য পরিবহন হয়েছে, যার অধিকাংশই বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিজস্ব বহর বাড়লে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, বিদেশ থেকে আয় এবং দেশি নাবিকদের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এ প্রসঙ্গে কেএসআরএম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মেহেরুল করিম বলেন, জাহাজের বহর বাড়লে দেশি নাবিকদের সুযোগ, নিজেদের পণ্য পরিবহন এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। বিএসসির নতুন জাহাজ কেনার উদ্যোগ এ সুযোগকে আরও এগিয়ে নেবে।
বর্তমান অবস্থা সমুদ্রপথে সরকারি ও বেসরকারি মিলে জাহাজ আছে ১০০টি।বেসরকারি খাতে ৯৫টি, বিএসসির ৫টি।কেএসআরএম গ্রুপের ২৮টি, মেঘনা গ্রুপের ২৫টি, আকিজ শিপিংয়ের ১০টি জাহাজ।
দেশি প্রতিষ্ঠানের যাত্রা ১৯৭২ সালে বিএসসি প্রথম সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন শুরু করে।১৯৭৮ সালে বেসরকারি খাত এ ব্যবসায় যুক্ত হয়।সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয় এবং নাবিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।