শ্রম আইন সংশোধন: ট্রেড ইউনিয়ন সহজীকরণ নিয়ে মতবিরোধ

প্রতিবেদক: সরকার শ্রম আইন সংশোধন করে কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠন আরও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিদ্যমান আইনে কোনো প্রতিষ্ঠানে ইউনিয়ন গঠনে ২০ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন প্রয়োজন হলেও প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এ শর্ত বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে ন্যূনতম ২০ জন শ্রমিকের সম্মতি থাকলেই ইউনিয়ন করা যাবে। তবে একটি প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ পাঁচটি ইউনিয়ন গঠনের সীমা থাকবে এবং যৌথ দর–কষাকষির প্রতিনিধি (সিবিএ) হতে হলে নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি ভোট পেতে হবে।

শ্রমিক নেতাদের উদ্বেগ অনেক শ্রমিকনেতা মনে করছেন, ২০ জনের সম্মতির সুযোগে মালিকপক্ষ, রাজনৈতিক দল কিংবা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সহজেই ইউনিয়ন গঠন করতে পারবে। এতে প্রকৃত শ্রমিকদের দর–কষাকষির জায়গা দুর্বল হয়ে যাবে এবং শিল্পে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।

মালিকপক্ষের অবস্থান মালিক সংগঠনগুলো বলছে, অল্পসংখ্যক শ্রমিক নিয়ে ইউনিয়ন করলে বিভাজন ও অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম অভিযোগ করেন, “কম্বোডিয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে।” তাঁদের মতে, অন্তত ১৫ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতি রাখাই যুক্তিযুক্ত।

আইএলও ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের চাপের পর সরকার শ্রম আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শুরু হওয়া প্রক্রিয়া অন্তর্বর্তী সরকার এগিয়ে নিচ্ছে। গত মার্চে আইএলওতে খসড়া উপস্থাপনের পর ২৬ আগস্ট ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) বৈঠকে সংশোধনী নিয়ে দিনব্যাপী আলোচনা হয়। সেখানে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের ২০ জন করে প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ হাজার নিবন্ধিত ইউনিয়ন থাকলেও সক্রিয় সংখ্যা খুব কম। পোশাক খাতে রয়েছে প্রায় ১,৪০০ ইউনিয়ন। অনেক ক্ষেত্রে মালিকরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন গঠন করেন, আবার শ্রম অধিদপ্তর নানা অজুহাতে আবেদন বাতিল করে। ফলে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জায়গা দুর্বল হয়ে আছে।

শ্রম সংস্কার কমিশন ইউনিয়ন নিবন্ধনে শ্রমিকসংখ্যার অনুপাতের বদলে ন্যূনতম শ্রমিকসংখ্যার ভিত্তিতে অনুমোদনের পক্ষে মত দেয়। তারা শ্রম অধিদপ্তরকে ৫৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার সুপারিশও করে।

শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, “শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে বছরের পর বছর আলোচনা চলছে। আর আলোচনার সুযোগ নেই। আমরা ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শ্রম আইন চূড়ান্ত করব।”