প্রতিবেদক: দেশে সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ মূল্য। ক্রমবর্ধমান এই দামের কারণে মধ্যবিত্তের সোনার গয়না পরার শখ যেন দিন দিন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
সরাসরি সোনা আমদানি না হলেও বৈশ্বিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়ছে। বৈধ পথে সোনা আমদানি না হওয়ার কারণে যাত্রী ব্যাগেজ রুলসের আওতায় আনা সোনাই এখন দেশের একটি বড় জোগানের উৎস। এতে করে বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশে ভরিপ্রতি সোনার দাম কয়েক হাজার টাকা বেশি। আবার করোনার পর ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় সোনার দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিদেশ থেকে ফেরার সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনার গয়না শুল্কমুক্তভাবে আনার সুযোগ রয়েছে। নতুন অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা–২০২৫ অনুযায়ী, একজন বিদেশফেরত যাত্রী বছরে একবার সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম সোনার অলংকার আনতে পারবেন, যার ওপর কোনো শুল্ক দিতে হবে না। অর্থাৎ প্রায় আট ভরি ১০ আনা সোনার গয়না শুল্কমুক্তভাবে দেশে আনা সম্ভব। পাশাপাশি একজন যাত্রী ২০০ গ্রাম রুপার অলংকারও আনতে পারবেন শুল্ক ছাড়াই। তবে সোনা বা রুপা—যে ধাতুই হোক না কেন, একই ধরনের গয়না ১২ পিসের বেশি আনা যাবে না।
এ ছাড়া যাত্রীরা বছরে একবার সর্বোচ্চ ১০ তোলা ওজনের একটি সোনার বার আনতে পারবেন, তোলাপ্রতি ৫ হাজার টাকা শুল্ক দিয়ে। বিমানবন্দরে নামার পর যাত্রীদের ব্যাগেজ ঘোষণা ফরম পূরণ করতে হয়, যেখানে ব্যক্তিগত তথ্য ও আনা পণ্যের বিবরণ দিতে হয়। তবে ১০০ গ্রাম সোনার অলংকার ও ২০০ গ্রাম রুপার অলংকারের কম থাকলে এই ফরম পূরণের প্রয়োজন নেই।
নির্ধারিত সীমার মধ্যে পণ্য আনলে যাত্রীরা বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল দিয়ে সরাসরি বের হতে পারেন, কোনো শুল্ক ছাড়াই।
বিশ্ববাজারে সোনার দামও ক্রমবর্ধমান। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে ব্যাংক অব আমেরিকা গ্লোবাল রিসার্চ জানিয়েছে, আগামী বছরই সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলার হতে পারে।