লাফার্জহোলসিমের মুনাফা বেড়ে ৩৫৬ কোটি টাকা

প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) ৩৫৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। একই সঙ্গে শেয়ারধারীদের জন্য ১৮ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে প্রতি শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা ১ টাকা ৮০ পয়সা করে লভ্যাংশ পাবেন।

কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের গত মঙ্গলবারের সভায় ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসের আর্থিক হিসাব চূড়ান্ত করে লভ্যাংশের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে এক বিজ্ঞপ্তিতে লাফার্জহোলসিম মুনাফা ও লভ্যাংশ–সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ কোটি টাকা বা সাড়ে ৭ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর এ সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল ৩৩১ কোটি টাকা, যা এ বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৬ কোটি টাকায়। এর মধ্যে শুধু জুলাই–সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মুনাফা হয়েছে ১২০ কোটি টাকা, যা মোট নয় মাসের মুনাফার প্রায় ৩৪ শতাংশ। গত বছরের একই প্রান্তিকে মুনাফা ছিল ৮৮ কোটি টাকা; অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রান্তিক মুনাফা বেড়েছে ৩২ কোটি টাকা বা ৩৬ শতাংশ।

লাফার্জহোলসিমের ঘোষিত এই অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ বাবদ মোট বিতরণ করা হবে প্রায় ২০৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বড় অংশটি পাবেন উদ্যোক্তা–পরিচালকেরা, যাঁদের হাতে কোম্পানির মোট শেয়ারের ৬৩ শতাংশের বেশি। তাঁরা লভ্যাংশ বাবদ পাবেন প্রায় ১৩২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বাধিক লভ্যাংশ পাবেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা, যাঁদের হাতে রয়েছে কোম্পানির সোয়া ২২ শতাংশ শেয়ার। তাঁদের প্রাপ্য লভ্যাংশ প্রায় ৪৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পাবেন ২৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা, এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে লাফার্জহোলসিমের মোট ব্যবসার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা, যা গত বছরের ২ হাজার ৬৯ কোটি টাকা থেকে ৯৭ কোটি টাকা বা ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিক্রিবৃদ্ধির তুলনায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে আরও বেশি হারে। গত বছর প্রথম নয় মাসে উৎপাদন খরচ ছিল ১ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা, আর এ বছর তা বেড়ে ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে—অর্থাৎ ১২৭ কোটি টাকার বৃদ্ধি।

যদিও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, তবু কোম্পানির আর্থিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং সুদ আয় বেড়েছে, যার ফলে সামগ্রিক মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভালো মুনাফা ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বলেন, “সরকারি খাতে বিনিয়োগে মন্দা ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় নির্মাণশিল্প খাত চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। তবুও লাফার্জহোলসিম ভালো ব্যবসা করেছে। আমাদের পণ্য ও সেবার প্রতি ক্রেতাদের আস্থা থাকায় এটি সম্ভব হয়েছে।”

এদিকে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবার লাফার্জহোলসিমের প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৫১ টাকা ২০ পয়সা। এদিন কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১০ পয়সা কমে লেনদেন শেষ হয়।