প্রতিবেদক: বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় ইসলামী ব্যাংকের প্রারম্ভিক পর্যায়ের দুটি পদে চাকরি পেতে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। পদ দুটি হলো ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার ও ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ)। ব্যাংকটি কতজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে আগামী ১ নভেম্বর এই দুই পদে নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, যার পর বিপুল সাড়া পাওয়া গেছে। দুই পদের জন্য মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। জানা গেছে, এসব আবেদনকারীর মধ্য থেকে সাড়ে তিন হাজার কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে।
গত আট বছর ইসলামী ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে, যা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালেই শুরু হয়। ওই সময় ব্যাংকটি নানা অনিয়ম ও বিতর্কের মুখে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করে, যার বড় অংশ এখনো আদায় হয়নি।
এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় ইসলামী ব্যাংকে ১০ হাজার ৮৩৪ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের কাউকেই নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে নেওয়া হয়নি। এদের মধ্যে ৭ হাজার ২২৪ জন ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা, আর এর মধ্যেই প্রায় ৪ হাজার ৫২৪ জন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের নিজ উপজেলা পটিয়ার। নিয়োগে এমন অনিয়মের কারণে বর্তমানে ব্যাংকটি প্রশাসনিক জটিলতার মুখে রয়েছে।
গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এস আলম গ্রুপ ও তাদের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা দেশত্যাগ করেন। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়োগ দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় চার হাজার কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হন।
বর্তমানে ব্যাংকটি নতুনভাবে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। জানা গেছে, শিগগিরই ব্যাংকটি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ আরও বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেবে, যাতে শূন্য পদগুলো পূরণ করা যায়।
ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) এম কামাল উদ্দীন জসীম বলেন,আমরা পুরোপুরি পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করছি। এ নিয়ে কারও কোনো আপত্তির সুযোগ থাকবে না। সামনে আরও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।