অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তৃতীয় প্রান্তিকে ২৪২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে রবি

প্রতিবেদক: দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) ২৪২.৩ কোটি টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা (পিএটি) অর্জন করেছে রবি আজিয়াটা পিএলসি।
অর্থনৈতিক স্থবিরতার এই সময়েও মুনাফার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রবি আবারও তাদের দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রমাণ দিয়েছে।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ প্রান্তিকে রবির মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ২,৫১১.৪ কোটি টাকা, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১.৭ শতাংশ কম। তবে ২০২৪ সালের একই প্রান্তিকের তুলনায় রাজস্ব আয় বেড়েছে ১.৫ শতাংশ।
যদিও কর-পরবর্তী মুনাফা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৫.৯ শতাংশ কমেছে, কিন্তু গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই মুনাফা বেড়েছে ২৮.৪ শতাংশ — যা বছরের মধ্যে রবির ধারাবাহিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।

রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিয়াদ সাতারা বলেন,

“তুলনামূলকভাবে দ্বিতীয় প্রান্তিকের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকায় সেটির ফলাফল কিছুটা শক্তিশালী ছিল। দীর্ঘায়িত বর্ষাকাল গ্রাহকদের ব্যয়ে প্রভাব ফেলেছে। তবে আমাদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে ভালো অগ্রগতি হয়েছে, যা টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক। এ নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।”

২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে রবির ইবিআইটিডিএ (EBITDA) বা আয়কর, অবচয় ও অবচয়ন বাদে মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১,২৯৩.১ কোটি টাকা, যা ৫১.৫ শতাংশ মার্জিন নির্দেশ করে।
আগের প্রান্তিকের তুলনায় ইবিআইটিডিএ কমেছে ৪ শতাংশ, এবং গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৩.৫ শতাংশ। তবুও কর-পরবর্তী মুনাফায় বছরের তুলনায় ২৮.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে রবি।

রবি চলতি প্রান্তিকে সরকারের কোষাগারে ১,৩৮২.৭ কোটি টাকা জমা দিয়েছে, যা মোট আয়ের ৫৫ শতাংশ।
তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মূলধনি বিনিয়োগ ছিল ৩১৪.৯ কোটি টাকা, আর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৪৬ টাকা — যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৫.৯ শতাংশ কম হলেও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ২৮.৪ শতাংশ।

গ্রাহক বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অগ্রগতি দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তৃতীয় প্রান্তিক শেষে রবির সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৭৫ লাখ, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১ লাখ বেশি।
এর মধ্যে ডেটা গ্রাহক বেড়েছে ৭ লাখ— মোট সংখ্যা এখন ৪ কোটি ৪৮ লাখ।
একই সময়ে ১১ লাখ নতুন ফোরজি গ্রাহক যুক্ত হয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৯৬ লাখে।

তৃতীয় প্রান্তিক শেষে রবির মোট গ্রাহকের ৭৭.৯ শতাংশ ডেটা গ্রাহক এবং ৬৯ শতাংশ ফোরজি গ্রাহক, যা দেশের টেলিকম খাতে সর্বোচ্চ।
এ সময় পর্যন্ত রবির ফোরজি সাইটের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ হাজার ৫০০টি, যার মাধ্যমে ৯৮.৯৮ শতাংশ মানুষ ফোরজি কভারেজের আওতায় এসেছে।