প্রতিবেদক: চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নির্বাচন দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল আদালত। বৃহস্পতিবার সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়।
আগামী শনিবার (২ নভেম্বর) চেম্বারের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে আদালতের আদেশে সেই নির্বাচন এখন স্থগিত থাকছে।
চেম্বার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের পর এই প্রথম ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। এর পর থেকে টানা কয়েক মেয়াদ ধরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেম্বারের নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়ে আসছিল।
গত ২২ সেপ্টেম্বর এক ব্যবসায়ীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট দুই শ্রেণি বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে ২২ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে। আজকের শুনানিতে আদালত হাইকোর্টে দায়ের হওয়া রিট দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন এবং রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিতের আদেশ জারি করেন।
রিটকারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বেলালের পক্ষে আইনজীবী নিহাদ কবির বলেন, “আপিল আদালত বলেছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে রিট নিষ্পত্তি করতে হবে। ততদিন পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত থাকবে।”
চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের ভোটে ১২ জন সাধারণ শ্রেণি, ৬ জন সহযোগী শ্রেণি এবং ৩ জন করে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে পরিচালক নির্বাচিত হন। পরিচালকরাই পরবর্তীতে সভাপতি ও দুই সহসভাপতি নির্বাচন করেন।
তবে এবার টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণিতে মোট ছয়জন প্রার্থী পরিচালক হওয়ার পথে ছিলেন, কিন্তু ওই দুই শ্রেণির অকার্যকর সদস্যদের কারণে নির্বাচন নিয়ে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়।
চেম্বারের তদন্তে দেখা যায়, আটটি ট্রেড ও টাউন গ্রুপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেন এবং পরে আদালতে রিট করেন।
অকার্যকর চারটি টাউন অ্যাসোসিয়েশন হলো—পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও রাঙ্গুনিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
অন্যদিকে চারটি ট্রেড গ্রুপ হলো—চট্টগ্রাম ক্ষুদ্র পাদুকা শিল্পমালিক গ্রুপ, চট্টগ্রাম টায়ার টিউব ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস গ্রুপ, চিটাগাং ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার গ্রুপ এবং চিটাগাং মিল্ক ফুড ইমপোর্টার্স গ্রুপ।