বিশ্বের প্রথম ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি এনভিডিয়া

প্রতিবেদক: চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার অগ্রযাত্রা যেন থামছেই না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত এই কোম্পানির ব্যবসায়িক বিকাশ এখন প্রযুক্তি খাতে স্বাভাবিক এক ঘটনাই হয়ে উঠেছে। এআই প্রযুক্তির বৈপ্লবিক উত্থানের ঢেউয়ে ভর করে এনভিডিয়া একের পর এক সাফল্যের মাইলফলক অর্জন করছে।

সফলতার ধারাবাহিকতায় জেনসেন হুয়াং প্রতিষ্ঠিত এনভিডিয়া গত বুধবার ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। কোম্পানিটি বিশ্বের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৫ ট্রিলিয়ন বা ৫ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের বাজারমূলধনের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। অ্যারাবিয়ান বিজনেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজারমূলধন ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর ঘোষণার পরদিন এনভিডিয়ার শেয়ারের দর ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে দিন শেষে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৫ দশমিক শূন্য ৩ ট্রিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।

এক মাইলফলক থেকে আরেক মাইলফলকে পৌঁছাতে এনভিডিয়ার সময় লাগছে খুবই অল্প। ২০২৩ সালের জুনে প্রথম এক ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শের পর কোম্পানিটি মাত্র ২৯ মাসে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে। এক থেকে দুই ট্রিলিয়নে যেতে এনভিডিয়ার সময় লেগেছিল ১৮০ দিন, দুই থেকে তিন ট্রিলিয়নে ৬৬ দিন, আর চার থেকে পাঁচ ট্রিলিয়নে পৌঁছাতে সময় লেগেছে মাত্র ৭৮ দিন।

এনভিডিয়ার এই অসাধারণ উত্থানের পেছনে কাজ করছে এআই বিপ্লব। ২০২২ সালের শেষ দিকে ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি চালুর পর থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। সেই সময় থেকে এনভিডিয়ার তৈরি জিপিইউ (GPU) চিপ হয়ে ওঠে এআই মডেল প্রশিক্ষণের মূল চালিকা শক্তি। চলতি বছর এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি, আর গত পাঁচ বছরে বেড়েছে ১ হাজার ৫০০ শতাংশের বেশি। তুলনামূলকভাবে এ বছর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে ১৭ শতাংশ এবং ন্যাসডাক বেড়েছে ২৩ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এনভিডিয়ার বাজারমূলধন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছাড়া বিশ্বের যেকোনো দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আকারকেও ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ২৯ দশমিক ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার, চীনের ১৮ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ডলার, আর তৃতীয় স্থানে থাকা জার্মানির জিডিপি ৪ দশমিক ৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার—যা এনভিডিয়ার বাজারমূলধনের চেয়েও কম।

বাজারমূলধনের দিক থেকে এখন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মাইক্রোসফট, যার বাজারমূলধন ৪ লাখ ২৫ হাজার কোটি ডলার। তৃতীয় স্থানে অ্যাপল (৪ লাখ কোটি ডলার), চতুর্থ স্থানে অ্যালফাবেট (৩ লাখ ৩২ হাজার কোটি ডলার), এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে অ্যামাজন (২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি ডলার)।

এনভিডিয়ার এই অর্জন শুধু একটি কোম্পানির সাফল্যের গল্প নয়; এটি আধুনিক প্রযুক্তি-বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব ও সম্ভাবনার প্রতীকও বটে।