প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নতুন কারখানা চালু করেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক রাসায়নিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিকা বাংলাদেশ। সোমবার দুপুরে সোনারগাঁয়ের টিপরদী এলাকায় অবস্থিত মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এমআইইজেড) প্রতিষ্ঠানটির কারখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল। এ ছাড়া সিকা বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড সঞ্জীবন রায়, সিকা এশিয়া প্যাসিফিক ম্যানেজমেন্টের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইউমি কান, এবং মেঘনা গ্রুপ ও সিকা বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সিকা বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড সঞ্জীবন রায় বলেন, ‘সিকা বাংলাদেশ’ হলো সিকার ১০০তম সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যা প্রতিষ্ঠানের জন্য এক গৌরবের মাইলফলক। তিনি বলেন, সিকা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে টেকসই উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও নির্মাণ খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের নির্মাণ খাতের রাসায়নিক পণ্যের বাজারের আকার বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার। এই বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সিকা প্রায় ৫০ কোটি সুইস ফ্রাঁ বিনিয়োগে নতুন কারখানা স্থাপন করেছে।
প্রায় ৮ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই কারখানায় রয়েছে দুটি আধুনিক উৎপাদন লাইন। এর একটি লিকুইড অ্যাডমিক্সচার ও কংক্রিট পণ্য তৈরির জন্য এবং অন্যটি পাউডারভিত্তিক পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হবে।
বিশ্বব্যাপী নির্মাণ ও মোটরগাড়ি শিল্পে বন্ডিং, সিলিং, রিইনফোর্সিং, প্রটেকশন ও ড্যাম্পিং পণ্যে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান সিকা বর্তমানে ১০০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সিকা বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বলেন, সিকা মানেই গুণগত মান, উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়।তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে নির্মাণ খাতে উচ্চমানের উদ্ভাবনী পণ্য ও সমাধান দিয়ে আসছে।
বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার, এবং সিকার নতুন বিনিয়োগ এ লক্ষ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন,নির্মাণ খাতে সিকা বিশ্বনেতৃত্বে রয়েছে, আর তাদের বিনিয়োগ মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ ও আধুনিক অবকাঠামোগত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নির্বিঘ্নে কার্যক্রম চালাতে পারেন।
সুইস প্রতিষ্ঠান সিকার নতুন কারখানা বাংলাদেশের নির্মাণ শিল্পে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই বিনিয়োগ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই নয়, বিদেশি বিনিয়োগের আস্থা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।