প্রতিবেদক: একটি গাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেশের প্রায় সব মধ্যবিত্ত পরিবারেরই থাকে। কিন্তু এই স্বপ্ন ও সাধ্যের মধ্যে যোগসূত্র ঘটানো অনেক সময় সহজ হয় না। অনেকেই তাই গাড়ি কেনার জন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনা ভুল নয়, কিন্তু তা হতে হবে পরিকল্পিত ও বুঝেশুনে। হিসাব-নিকাশ ঠিকমতো না করলে আর্থিক ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গাড়ির বাজারদর, অবস্থা ও কাগজপত্রসহ সব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
গাড়ি কেনার আগে প্রথমেই একটি বাজেট ঠিক করা দরকার। নতুন ও রিকন্ডিশন্ড—দুই ধরনের গাড়ির ঋণই এখন পাওয়া যায়। আপনি কোন ধরনের গাড়ি কিনতে চান, তার দাম জেনে নিন এবং সেই অনুযায়ী বাজেট নির্ধারণ করুন। বাজেটের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ নিজে ডাউন পেমেন্ট দিলে ঋণের চাপ তুলনামূলক কমে যায়।
বর্তমানে বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গাড়ি কেনার জন্য ঋণ দিচ্ছে। আইপিডিসি, আইডিএলসি ও লংকাবাংলা ফাইন্যান্সসহ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্র্যাক, সিটি, ডাচ্-বাংলা ও ইস্টার্ন ব্যাংকের মতো বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই ক্ষেত্রে এগিয়ে। অনেক ব্যাংক এখন গাড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও চুক্তিবদ্ধ হয়ে সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণের শর্ত, সুদের হার ও মেয়াদ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত।
ঋণ নেওয়ার আগে সুদের হার তুলনা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কম কিস্তি দেখে সিদ্ধান্ত নিলে পরে মোট ঋণ ব্যয় বেশি হয়ে যেতে পারে। তাই পুরো মেয়াদে মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, তা জেনে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি ঋণের কিস্তি যেন মাসিক আয়ের ২০ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে থাকে, সেটি নিশ্চিত করা উচিত। এর বেশি হলে মাসিক খরচে চাপ পড়ে।
গাড়ি কেনার আগে বাজারদর যাচাই–বাছাই করাও প্রয়োজন। একই মডেলের গাড়ি ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হতে পারে। বিক্রয়ডটকম বা ফেসবুকের গাড়ি বেচাকেনা বিষয়ক গ্রুপগুলোতে দাম তুলনা করলে সঠিক মূল্য নির্ধারণে সহায়ক হবে।
পুরোনো বা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যান্ত্রিক পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ মেকানিক দিয়ে ইঞ্জিনের শব্দ, ধোঁয়া, ব্রেক, গিয়ার ও সাসপেনশন ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করান। এসব অংশে সমস্যা থাকলে পরে বড় অঙ্কের মেরামত খরচ পড়তে পারে।
সবশেষে, গাড়ির কাগজপত্র ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা দরকার। রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস, ইনস্যুরেন্স, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর সঠিক আছে কি না যাচাই করতে হবে। কোনো গরমিল পাওয়া গেলে সেই গাড়ি কেনা থেকে বিরত থাকাই ভালো।
সংক্ষেপে বলা যায়, ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে, যদি সিদ্ধান্তটা হয় সচেতন ও পরিকল্পিতভাবে। সময় নিয়ে যাচাই করুন, হিসাব করুন, তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন—তবেই স্বপ্নের গাড়িটি হবে নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ বিনিয়োগ।