ডিএসই সূচক ৫ হাজারের নিচে, বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক

প্রতিবেদক: দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আবারও ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে। এতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তালিকাভুক্ত পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা করায় বাজারে আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষিত পাঁচ ব্যাংক হলো এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—যেগুলো বর্তমানে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে এই ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেনের ভবিষ্যৎ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

টানা কয়েক দিনের দরপতনে  বুধবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৮৭ পয়েন্টে। এর আগে সর্বশেষ গত ৮ জুলাই সূচকটি ৪ হাজার ৯৮২ পয়েন্টে নেমেছিল। গত ৫ অক্টোবর ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৪৪৮ পয়েন্ট, অর্থাৎ এক মাসে সূচকটি কমেছে ৪৬১ পয়েন্ট বা প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, ৫ হাজার পয়েন্ট একটি মনস্তাত্ত্বিক সীমা হিসেবে বিবেচিত হয়। সূচকটি এই সীমা অতিক্রম করলে বাজারে আশাবাদ তৈরি হয়, আর নিচে নেমে গেলে দেখা দেয় হতাশা। বিশেষ করে যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন, তারা শেয়ারের দরপতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। কারণ, শেয়ারের দাম নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো জোরপূর্বক শেয়ার বিক্রি (ফোর্সড সেল) করে দেয়।

বাজার–সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বুধবার সূচক পতনের পেছনে মূলত ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতন ভূমিকা রেখেছে। লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক, ওয়ালটন, ওরিয়ন ইনফিউশন, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ও পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারের দর কমেছে সবচেয়ে বেশি।

এদিকে, ব্যাংকগুলোর শেয়ার শূন্য ঘোষণার পর তাদের লেনদেন কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, বিএসইসি ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইলেও মন্ত্রণালয় এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন অনিশ্চয়তায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ সম্মেলন শুনেছি ও দেখেছি। তবে ব্যাংকগুলোর শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণার বিষয়ে আমাদের দাপ্তরিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। দাপ্তরিক চিঠি পেলে বিএসইসি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’

শেয়ারবাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, ব্যাংকগুলোর বিষয়ে বিএসইসির দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং এর প্রভাব পুরো বাজারে পড়ছে।

ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিএসইসির উচিত ছিল ব্যাংকগুলো একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়ার সময়েই তাদের শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা। কিন্তু সেটি করা হয়নি। ফলে ব্যাংকগুলোর শেয়ারের ক্রমাগত দরপতন হচ্ছে, যার প্রভাব অন্যান্য শেয়ারের ওপর পড়ছে। এখন ব্যাংকগুলোর বিষয়ে বিএসইসির দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।