প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস আমদানি নিষিদ্ধ ঘনচিনি (সোডিয়াম সাইক্লামেট)-এর একটি বড় চালান আটক করেছে। আজ সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন ও রিসার্চ (এআইআর) দল খালাসের শেষ মুহূর্তে ৩৯ টন ঘনচিনি আটক করে। এই পণ্য চীন থেকে আমদানি করা হয়েছিল।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঘনচিনি একটি কৃত্রিম মিষ্টিকারক, যা সাধারণ চিনির তুলনায় ৩০ থেকে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি। বিভিন্ন মিষ্টান্ন, বেকারি আইটেম, আইসক্রিম, বেভারেজ, জুস, চকলেট, কনডেন্সড মিল্ক ও শিশুখাদ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা এই ক্ষতিকারক উপাদান ব্যবহার করে থাকেন। এনবিআর সতর্ক করে বলেছে, ঘনচিনি দ্বারা প্রস্তুত খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, যা ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের জটিল রোগের কারণ হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আটক চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসপি ট্রেডার্স, যার ঠিকানা ২১৮ মিটফোর্ড রোড, বংশাল, ঢাকা। গত ৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি পলিঅ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড ঘোষণায় চীন থেকে তিনটি কনটেইনারে মোট ৬৩ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করে। চালান খালাসের জন্য আমদানিকারকের পক্ষে সি বার্ড করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান ৭ অক্টোবর বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে।
চালানটি খালাসের জন্য ট্রাকে তোলার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা পণ্যের খালাস স্থগিত করেন। পরে ২৮ অক্টোবর সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়, যেখানে দুই ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। নমুনা পরীক্ষায় দেখা যায়—একটিতে ২৪ টন পলিঅ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড, আর বাকি ৩৯ টন ঘনচিনি।
নিষিদ্ধ ঘনচিনি আমদানির কারণে কাস্টমস আইন অনুযায়ী চালানটি জব্দ করা হয়েছে, এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে এনবিআর জানিয়েছে।