প্রতিবেদক: ৫৫০ কোটি ডলারের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে কি না—এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর। দুই সপ্তাহের বৈঠক শেষে ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফ মিশন প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও বলেন, নতুন সরকারকে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়াই যৌক্তিক। নির্বাচনের পর আগামী এপ্রিল–মে মাসে একটি উচ্চপর্যায়ের দল এসে যৌথ পর্যালোচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার; বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার। অর্থ উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের ষষ্ঠ কিস্তি পাওয়া যাচ্ছে না।
আইএমএফ জানায়, বাংলাদেশে জিডিপির তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহ বিশ্বের অন্যতম কম। কর ফাঁকি, অপ্রয়োজনীয় ভ্যাট-ছাড়, করমুক্ত সুবিধা এবং কম টার্নওভার কর—এসব কারণে রাজস্ব বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, অবকাঠামো, সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য রাজস্ব সংগ্রহকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তাদের মতে, ভালো নীতি থাকলেও বাস্তবায়ন দুর্বল হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এখন দরকার সাহসী, বাস্তবসম্মত ও সহজে কার্যকরী সংস্কার।
সংস্থাটি বলেছে, দুর্বল ব্যাংকগুলোর কারণে আর্থিক খাতে চাপ তৈরি হচ্ছে। পরিচালনা ও ঋণ পুনরুদ্ধারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিনিময় হার সংস্কারের পর রিজার্ভ কিছুটা বাড়লেও এটি স্থায়ী নয় বলে সতর্ক করে আইএমএফ। মূল্যস্ফীতি এখনো ৮.২ শতাংশে থাকায় তারা মনে করে, সুদহার এখনই কমানো উচিত নয়। মূল্যস্ফীতি ৫–৬ শতাংশে না নামা পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
পাপাজর্জিও বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে তাদের বৈঠক শুধু সরকারি দপ্তরের সঙ্গে নয়, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
আইএমএফ জানায়, সামাজিক সুরক্ষা শুধু দারিদ্র্য হ্রাসই নয়—সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সম্মান রক্ষার উপায়ও। মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার কারণে ঝুঁকি বাড়ায়, তাই ডিজিটাল নিবন্ধন ও তথ্যভিত্তিক পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।