প্রতিবেদক: ডিজিটাল ব্যবসার ক্ষেত্রে ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ডিবিআইডি) এখন বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন ই–কমার্স ও এফ–কমার্সসহ ডিজিটাল ব্যবসায়ীরা। ডিবিআইডি নিবন্ধন সেবা দিচ্ছে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি)। সংস্থাটির দাবি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন প্রকল্প এসপায়ার টু ইনোভেটের (এটুআই) অসহযোগিতার কারণে তারা সেবা দিতে পারছে না। ফলে প্রতিদিন আবেদন জমা পড়লেও তা নিষ্পত্তি হচ্ছে না।
আরজেএসসি–সংশ্লিষ্টদের মতে, কারিগরি সমস্যা, বাজেট সংকট এবং আইটি–জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের অভাবে ডিবিআইডি সেবায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। গত ১১ মাসে আরজেএসসি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একাধিক চিঠি পাঠিয়ে সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্ল্যাটফর্ম সচল ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট নেই। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাজেট চেয়ে চিঠি দিলেও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এই খাতে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা এ নিয়ে বৈঠক করেছি। আশা করি দ্রুতই সমস্যা সমাধান হবে।
২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ডিবিআইডি কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ডিবিআইডি পেয়েছে মাত্র ১ হাজার ৮৭০ প্রতিষ্ঠান। আর নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ১২ হাজার আবেদন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে কেউ কেউ দুই বছর ধরে অপেক্ষায় আছেন। কুইক পে বিডির স্বত্বাধিকারী রবিউল ইসলাম জানান, চার বার চেষ্টা করার পর তাঁর আবেদন দুই মাস আগে অনুমোদিত হয়। আরজেএসসিতে সরাসরি আসা আবেদনকারী আরিফ মোহাম্মদ বলেন, এক বছর আগে আবেদন করলেও অনুমোদন মেলেনি, আর অফিসে ঢুকতেও বাধার মুখে পড়ছেন।
ডিবিআইডি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া—যেকোনো প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা করতে হলে ডিবিআইডি বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট–টিন নম্বর, কোম্পানি নিবন্ধন নম্বর এবং ভাড়ার ক্ষেত্রে চুক্তিপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
আরজেএসসি সূত্র জানায়, ডিবিআইডি সেবাটি এটুআইয়ের ‘মাই গভ’ প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্ল্যাটফর্মটির অসংগতি, যোগাযোগ সংকট এবং এটুআইয়ের ফোকাল পয়েন্ট না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আবেদনকারীদের। ফলে প্রতিদিন ২০–২৫ জন অভিযোগ করতে আরজেএসসিতে আসছেন।
আরজেএসসির নিবন্ধক এ কে এম নূরুন্নবী কবির বলেন, ‘‘সেবা দিতে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। কারণগুলো মন্ত্রণালয় ও এটুআইকে জানিয়েছি, সমাধানের অপেক্ষায় আছি।’’
সম্প্রতি আরজেএসসি নিবন্ধক বাণিজ্যসচিবকে জানান, পূর্বানুমতি ছাড়াই কয়েকবার ডিবিআইডির লাইভ সিস্টেম ডাউন করা হয়েছে। প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার জন্য রকমারি আইটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান মাইসফট হ্যাভেন (বিডি) লিমিটেড এবং থ্রিডেভস আইটি লিমিটেডের সঙ্গে সরকারের চুক্তির মেয়াদ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শেষ হয়েছে। কিন্তু প্ল্যাটফর্ম দুটি এখনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি।
ডিবিআইডি সিস্টেমে ঘন ঘন কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় গ্রাহকরা চরম অসুবিধায় পড়ছেন। এতে আরজেএসসির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক আবদুর রফিক বলেন, ‘‘বিষয়টি এত দিন আমার নজরে আসেনি। আলোচনা হলে সমাধান বের হবে বলে মনে করি।’’